শিক্ষক নিয়োগ থেকে ওবিসি মামলায় যুগান্তকারী রায়! কলকাতা হাইকোর্টের নয়া প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী

শিক্ষক নিয়োগ থেকে ওবিসি মামলায় যুগান্তকারী রায়! কলকাতা হাইকোর্টের নয়া প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী

কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। শনিবার, ২০ জুন বর্তমান প্রধান বিচারপতির অবসরের পরই তিনি এই নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের তরফে ইতিমধ্যেই তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

আইনজীবী পরিবার থেকে হাইকোর্টের শীর্ষ পদে

১৯৬৭ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার এক আইনজীবী পরিবারে জন্ম তপোব্রত চক্রবর্তীর। পারিবারিক আবহের প্রভাবেই আইন নিয়ে পড়াশোনা এবং ১৯৯১ সালের জানুয়ারি মাসে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে সুদীর্ঘ ২২ বছর আইনি প্র্যাকটিস করার পর, ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ তিনি স্থায়ী বিচারপতির পদ লাভ করেন। আটান্ন বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ বিচারপতি এবার রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের শীর্ষ পদে বসতে চলেছেন।

আলোচিত রায় ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী তাঁর কর্মজীবনে একাধিক যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন, যা রাজ্য রাজনীতি ও সমাজজীবনে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। দুর্নীতির অভিযোগে সিঙ্গল বেঞ্চের বাতিল করা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি তাঁর ডিভিশন বেঞ্চই বহাল রেখেছিল। অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের পক্ষে সওয়াল করে তিনি জানিয়েছিলেন যে বৃহত্তর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কারও জীবিকা কেড়ে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে, ওবিসি শংসাপত্র প্রদান প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির প্রমাণ পেয়ে ২০১০ সালের পর থেকে দেওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের মতো কড়া নির্দেশও তিনি দিয়েছিলেন।

বর্তমান প্রধান বিচারপতির স্বাভাবিক অবসরের কারণে এই রদবদল একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া হলেও, বিচারপতি চক্রবর্তীর মতো কড়া অথচ প্রমাণ-নির্ভর বিচারপতির শীর্ষ পদে আরোহণ হাইকোর্টের ভবিষ্যৎ বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষত নিয়োগ দুর্নীতি বা প্রশাসনিক অনিয়মের মতো বিচারাধীন মামলাগুলিতে তাঁর নিরপেক্ষ আইনি অবস্থান এবং প্রমাণের উপর কড়া নির্ভরশীলতা রাজ্যের বিচারব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *