উপকারের বদলে মারাত্মক ঝুঁকি! দেশজুড়ে ১৬টি ওষুধের উৎপাদন ও বিক্রিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা

দেশীয় বাজারে বহুল প্রচলিত ১৬টি ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন (FDC) বা মিশ্র ওষুধের উৎপাদন, বিক্রি, বণ্টন এবং সরবরাহের ওপর দেশজুড়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। মানুষের শরীরে উপকারের তুলনায় এই ওষুধগুলির সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি বলে জানানো হয়েছে। ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের (DTAB) বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই জনস্বার্থে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, বাজারে যাতে কেবলমাত্র কার্যকর ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ওষুধই উপলব্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
নিষিদ্ধের তালিকায় অ্যান্টিবায়োটিক থেকে স্কিনকেয়ার সামগ্রী
ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০-এর ২৬এ ধারার অধীনে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই ১৬টি ওষুধের কোনো চিকিৎসাগত যৌক্তিকতা নেই। নিষিদ্ধ হওয়া ওষুধের তালিকায় রয়েছে ব্যথানাশক, পেটের ব্যথা কমানোর ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক এবং চর্মরোগের ওষুধ। ডাইসাইক্লোমিন, প্যারাসিটামল ও ক্লিডিনিয়াম ব্রোমাইডের মিশ্রণ কিংবা অ্যালোভেরার সঙ্গে ভিটামিন ই, জোজোবা অয়েল বা টি ট্রি অয়েলের মতো জনপ্রিয় স্কিনকেয়ার সামগ্রীও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। মূলত দুই বা ততোধিক সক্রিয় উপাদানের অবৈজ্ঞানিক ও ক্ষতিকারক মিশ্রণ রুখতেই নির্দিষ্ট ওষুধগুলিকে চিহ্নিত করেছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এই পদক্ষেপে দেশীয় ওষুধের বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে বাজারে অবৈজ্ঞানিক ও ক্ষতিকর মিশ্র ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার যেমন কমবে, তেমনই সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাগত নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত হবে। নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে সমস্ত রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে কড়া বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা, আমদানিকারক ও পরিবেশকদেরও দ্রুত এই নির্দেশিকা মেনে বাজার থেকে নিষিদ্ধ ওষুধগুলি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।