‘কাটমানি’র টাকায় কোটি টাকার চার্টার ফ্লাইট! চরম আর্থিক কেলেঙ্কারি ও প্রবল ভাঙনের মুখে তৃণমূল

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে একসময় রাজ্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। একের পর এক শীর্ষ নেতার ইস্তফা, বিদ্রোহী সাংসদদের আলাদা ব্লক তৈরি এবং এবার দলেরই বিপুল আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ! সব মিলিয়ে বাংলার শাসকদল এখন এক নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি।
উৎস কি ‘কাটমানি’? দলের বিরুদ্ধেই পুলিশের দ্বারস্থ বিদ্রোহী বিধায়ক
দলের তহবিলে থাকা বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, দলের এই তহবিলের উৎস সরকারি প্রকল্পের তছরুপ হওয়া অর্থ কিংবা ‘কাটমানি’ হতে পারে। সত্য সামনে আনতে ইতিমধ্যেই তিনি পুলিশের কাছে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন। ঋতব্রতর দাবি, দলের অধিকাংশ বিধায়কই এই তহবিলের অর্থের উৎস সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবগত নন, তাই এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
চার্টার ফ্লাইটে কোটি কোটি খরচ!
বিদ্রোহী শিবিরের আরও অভিযোগ, দলের নিচুতলার সাধারণ কর্মীদের আইনি লড়াইয়ের জন্য যখন কানাকড়িও দেওয়া হয় না, তখন শীর্ষ নেতাদের দিল্লি যাতায়াতের জন্য চার্টার বিমানে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা দেদার ওড়ানো হয়েছে! অবিলম্বে এই সমস্ত খরচের তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি ও পাল্টা তোপ
- অরূপ বিশ্বাসের পদক্ষেপ: পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ককে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। দলের নেতৃত্ব নিয়ে বিবাদ না মেটা পর্যন্ত কোনও লেনদেন যাতে না হয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
- কুণাল ঘোষের আক্রমণ: অন্যদিকে, বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর পালটা দাবি, “বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা নিজের প্রচারের জন্য দলের অ্যাকাউন্ট থেকেই ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। দলের টাকায় জিতে আজ তাঁরাই তদন্ত চাইছেন! টাকা অবৈধ মনে হলে আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে তা ফেরত দিন।”
যেখান থেকে শুরু এই মহাসংকট:
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করার সময় একটি সই জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দাবি করেন, ওই প্রস্তাবে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। স্পিকারের নির্দেশে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এর তদন্ত শুরু করে।
পরিস্থিতি চূড়ান্ত নাটকীয় মোড় নেয় যখন তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কই একযোগে বিদ্রোহী শিবিরের পাশে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানান।
নেতৃত্ব নিয়ে এই প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের মাঝে তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনে এই চরম রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকট কীভাবে সামাল দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।