অবশেষে কাটছে জট, ডিসেম্বরেই সই হতে চলেছে ঐতিহাসিক ভারত-ইউরোপ বাণিজ্যচুক্তি!

অবশেষে কাটছে জট, ডিসেম্বরেই সই হতে চলেছে ঐতিহাসিক ভারত-ইউরোপ বাণিজ্যচুক্তি!

দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। চলতি বছরের শেষেই, অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বর মাসে এই বহুপ্রতীক্ষিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই মেগা চুক্তির সময়সীমা স্পষ্ট করেছেন। কেন্দ্রের এই ঘোষণার পর থেকেই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

২০০৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের জোটের সঙ্গে ভারতের এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও দরকষাকষির পর, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বা সব চুক্তির সেরা চুক্তির চূড়ান্ত সমঝোতাপত্র ঘোষিত হয়েছিল। এবার এটি আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে চলেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যেই তা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে।

উন্মুক্ত হবে শূন্য শুল্কের বাজার

এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে ভারতের রপ্তানি খাতে এক অভূতপূর্ব জোয়ার আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, চুক্তিটি সম্পন্ন হলে প্রায় শূন্য শুল্কে ইউরোপের বিশাল বাজার ভারতীয় পণ্যের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের মানচিত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে বড় গতি আনবে। মূলত টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য এবং রত্ন-অলংকারের মতো ভারতীয় শিল্পগুলো ইউরোপের বাজারে শুল্কহীন প্রবেশের সুবিধা পাওয়ায় বিপুল লাভবান হবে।

সস্তা হতে পারে বিলাসবহুল গাড়ি ও ওয়াইন

চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনো সরকারিভাবে প্রকাশ করা না হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে বেশ কিছু বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে ভারত সম্মতি জানাতে পারে। বিশেষ করে ১৫ হাজার ইউরোর (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা) বেশি মূল্যের আমদানিকৃত ইউরোপীয় গাড়ির ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের বাজারে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো বিলাসবহুল গাড়িগুলোর দাম একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। এর পাশাপাশি, চুক্তির হাত ধরে বিদেশি ওয়াইনের ওপর থেকেও আমদানি শুল্ক হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দেশের বাজারে ইউরোপীয় ওয়াইন বেশ সস্তা হবে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সফল অন্তিমের দিকে এগোনোয় বিশ্ব অর্থনীতির নজর এখন ভারত ও ইউরোপের এই নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *