জলের তলাতেও কড়া নজর! ‘চিকেনস নেক’-এ অনুপ্রবেশ রুখতে আন্ডারওয়াটার সেন্সর বসাল BSF

শিলিগুড়ি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে এবার জলের তলাতেও কড়া নজরদারি। শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ সংলগ্ন নদীপথগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে এবার ময়দানে নামানো হলো অত্যাধুনিক ‘আন্ডারওয়াটার সেন্সর’ (Underwater Sensor)।
নিরাপত্তায় মুড়ল ‘চিকেনস নেক’ রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। এর মাঝেই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও আটোসাঁটো করতে উদ্যোগী হলো সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)। তিস্তা, আত্রেয়ী ও গঙ্গার মতো নদীগুলোতে সাঁতার কেটে বা ডুব দিয়ে কেউ যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই অত্যাধুনিক সেন্সর কাজে লাগানো হচ্ছে।
বর্ষার চ্যালেঞ্জ সামলাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বর্ষার মরশুমে বৃষ্টিতে নদীতে জল বাড়ার সুযোগ নিয়ে গবাদি পশু, মাদক চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশের প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে যায়। বন্যা বা জলের তোড়ে অনেক সময় কাঁটাতারের বেড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্পিডবোট দিয়ে সর্বত্র নজরদারি চালানোও সম্ভব হয় না। দুর্যোগকে হাতিয়ার করে দুষ্কৃতীদের এই সক্রিয়তা রুখতেই এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে বিএসএফ:
- আন্ডারওয়াটার সেন্সর: জলের তলা দিয়ে হওয়া যেকোনো গতিবিধি বা অনুপ্রবেশ দ্রুত শনাক্ত করতে।
- ড্রোন ও থার্মাল ইমেজার: রাতের অন্ধকারে এবং নদীর দুর্গম চর এলাকায় নিখুঁত নজরদারি চালাতে।
- ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্ট (BOP): সীমান্ত এলাকা বন্যার জলে প্লাবিত হলে, সেখানে ভাসমান প্রহরার ব্যবস্থা করতে।
নয়াচরেও কড়া প্রশাসন শুধু উত্তরবঙ্গেই নয়, জলপথে অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপর দক্ষিণবঙ্গও। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার নদীপথ সংলগ্ন দ্বীপ নয়াচরে বেআইনিভাবে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করতে এবং জলপথে ঢুকে পড়া দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সব মিলিয়ে স্থলপথের পাশাপাশি এবার নদীপথেও অনুপ্রবেশ রুখতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী।