রুশ তেলবাহী জাহাজ জব্দের পর বিলেতে গ্রেপ্তার ভারতীয় ক্যাপ্টেন, বাড়ছে কূটনৈতিক উদ্বেগ

রুশ তেলবাহী জাহাজ জব্দের পর বিলেতে গ্রেপ্তার ভারতীয় ক্যাপ্টেন, বাড়ছে কূটনৈতিক উদ্বেগ

আমেরিকার পর এবার ব্রিটেনের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়েছেন ভারতীয় নাবিকরা। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রুশ অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অভিযোগে ইংলিশ চ্যানেল থেকে একটি বিশালাকার তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে ব্রিটিশ বাহিনী। একই সঙ্গে জাহাজটির ভারতীয় ক্যাপ্টেন অজয় পন্থকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এই ঘটনার পর থেকে ক্যাপ্টেন অজয়ের মুক্তি নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ও পতাকাবিহীন জাহাজের ক্রাইসিস

প্রাথমিক তদন্ত ও আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, চলতি জুনের শুরুর দিকে প্রায় এক লক্ষ টন উরাল ক্রুড (অপরিশোধিত তেল) নিয়ে রাশিয়া থেকে রওনা দিয়েছিল জাহাজটি। এর গন্তব্য ছিল ভারতের গুজরাটের সিক্কা বন্দর। তবে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিপত্তি ঘটে ইংলিশ চ্যানেলে। ব্রিটিশ জলসীমায় প্রবেশের পরপরই দেশটির নৌবাহিনী জাহাজটিকে অবরুদ্ধ করে।

যুক্তরাজ্য প্রশাসনের দাবি, জাহাজটিতে কোনো বৈধ দেশের পতাকা ছিল না। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি ক্যামেরুনের পতাকা ব্যবহার করলেও বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ পতাকাবিহীন অবস্থায় চলছিল। রুশ তেল এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম বহির্ভূতভাবে পতাকাবিহীন চলাচল—এই দুই কারণেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের বিশেষ নির্দেশে দ্রুত এই অভিযান চালানো হয়। জাহাজটিতে ক্যাপ্টেনের পাশাপাশি আরও ২৪ জন ক্রু ছিলেন, যাদের অধিকাংশই ভারতীয়। তবে অন্য নাবিকদের আটক না করা হলেও ক্যাপ্টেন অজয় পন্থকে গত ১৪ জুন থেকে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে ব্রিটিশ পুলিশ।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা অজয় পন্থের পরিবার সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই খবর জানতে পারায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ক্যাপ্টেনের স্ত্রীর দাবি, তাঁর স্বামী কেবল ওপরমহলের বাণিজ্যিক নির্দেশ পালন করছিলেন, এখানে তাঁর নিজস্ব কোনো দোষ নেই।

ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ডের স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে ভারতের বিদেশমন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ হাইকমিশনকে কনসুলার অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। একই সঙ্গে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল আমদানির বাণিজ্যিক রুট ও প্রক্রিয়া আগামী দিনে আরও জটিল আইনি নজরদারির আওতায় পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *