নিজের প্রিয় আসনে অন্য কাউকে দেখলেই মাথা গরম! জানুন নেপথ্যের বিজ্ঞান

অফিসের কনফারেন্স রুম, ক্যান্টিন বা কফি শপ—অনেকেরই প্রতিদিন ঠিক নির্দিষ্ট একটি চেয়ারেই বসার অভ্যাস রয়েছে। হঠাৎ সেই চেনা আসনে অন্য কাউকে বসে থাকতে দেখলে মুহূর্তেই মেজাজ বিগড়ে যায় অনেকের। সাধারণ চোখে এটি একঘেয়েমি বা বদমেজাজ মনে হলেও মনোবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। মূলত মস্তিষ্কের নিজস্ব শক্তি সঞ্চয় করার স্বাভাবিক প্রবণতা এবং মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তির কারণেই এমনটা ঘটে থাকে।
মস্তিষ্কের ‘অটো-পাইলট’ কৌশল
গবেষণা অনুযায়ী, মানুষের দৈনন্দিন কাজের প্রায় ৪৩ শতাংশই নিয়ন্ত্রিত হয় চেনা অভ্যাসের দ্বারা। মস্তিষ্ক সবসময় নিজের কাজ সহজ করতে এবং শক্তি বাঁচাতে চায়। আসন বেছে নেওয়ার মতো দৈনন্দিন ছোটখাটো বিষয়ে যাতে বাড়তি খাটুনি না হয়, তার জন্য মস্তিষ্ক অনেকটা সময় ‘অটো-পাইলট’ মোডে চলে। এর ফলে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মস্তিষ্কের শক্তি জমা থাকে। কিন্তু হঠাৎ চেনা জায়গায় অন্য কাউকে দেখলে মস্তিষ্কের সেই পূর্বনির্ধারিত আরামদায়ক সিদ্ধান্তে আকস্মিক বাধা আসে। এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের ফলেই মানুষের মনে তাৎক্ষণিক বিরক্তি বা রাগের সৃষ্টি হয়।
মানসিক প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস
এই নির্দিষ্ট জায়গায় বসার অভ্যাস শুধুমাত্র চিন্তার চাপই কমায় না, এর একটি সুদূরপ্রসারী মানসিক প্রভাবও রয়েছে। বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল ও অনিশ্চিত জীবনে নিজের চেনা আসনটি মানুষের মনের গভীরে নিয়ন্ত্রণ, শান্তি ও সুরক্ষার অনুভূতি এনে দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, ক্লাসরুম বা কর্মক্ষেত্রে যারা নির্দিষ্ট ও চেনা আসনে বসেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্মবিশ্বাসী বোধ করেন। অর্থাৎ, চেনা আসনে বসার এই প্রবণতা কোনো মনের অসুখ নয়, বরং নিজেকে সতেজ ও নিরাপদ রাখার একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক উপায়।