পরকীয়ার সন্দেহে শাশুড়িকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা! চেতলায় জামাইষষ্ঠীর দিনে রক্তারক্তি কাণ্ড

দক্ষিণ কলকাতার চেতলায় উৎসবের দিনেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে শাশুড়ির কাছে নালিশ জানাতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে চরম কাণ্ড ঘটিয়ে বসল জামাই। বচসার জেরে শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগে প্রশান্ত মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরকীয়ার সন্দেহ ও পারিবারিক কলহ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দশ বছর আগে চেতলার বাসিন্দা মিনতি ঘোষের মেয়ের সঙ্গে প্রশান্তর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে ছন্দপতন ঘটে বছর খানেক আগে। স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর সন্দেহ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত হয়। শনিবার জামাইষষ্ঠীর দিন শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে প্রশান্ত তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে শাশুড়ির কাছে অভিযোগ জানায়। সে দাবি করে, মিনতি দেবী যেন তাঁর মেয়েকে এমন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু নিজের মেয়ের নামে এই অভিযোগ মানতে সরাসরি অস্বীকার করেন শাশুড়ি এবং পাল্টা জামাইকে এই বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন।
বচসা থেকে প্রাণঘাতী হামলা
মেয়ের নামে বদনাম শুনতে নারাজ শাশুড়ির সঙ্গে জামাইয়ের তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয় যা দ্রুত হাতাহাতিতে পৌঁছায়। ক্ষোভের বশে একটি ছুরি দিয়ে শাশুড়ির ওপর হামলা চালায় প্রশান্ত। রক্তাক্ত অবস্থায় মিনতি দেবী আর্তনাদ করে বেরিয়ে এলে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং অভিযুক্ত জামাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পারিবারিক কলহ এবং অবিশ্বাসের জেরে এমন হিংসাত্মক ঘটনা সমাজে ক্রমশ বাড়তে থাকা পারস্পরিক অসহিষ্ণুতার মারাত্মক প্রভাবেরই ইঙ্গিত দেয়। পরে মিনতি দেবীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে চেতলা থানার পুলিশ শনিবার রাতেই অভিযুক্ত প্রশান্তকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।