১০ বছরে ষষ্ঠ বদল, সোমবারই কি ইস্তফা দিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার?

১০ বছরে ষষ্ঠ বদল, সোমবারই কি ইস্তফা দিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার?

রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে মেয়াদ শেষের আগেই ইস্তফা দিতে পারেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নিজের দলের শতাধিক সাংসদ তাঁর কাজে অসন্তুষ্ট হওয়ায় সোমবারই তিনি ইস্তফাপত্র জমা দিতে পারেন। ২০২৪ সালে লেবার পার্টিকে বিশাল জয় এনে দিলেও, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই স্টারমারের জনপ্রিয়তা ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে। যদিও রয়টর্সের দাবি, সরকারি সূত্র এই খবরকে ভিত্তিহীন বলেছে। তবে লেবার পার্টির মোট আসনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সাংসদ প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলায় তাঁর বিদায় এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয়তায় ধস ও দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব

প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পর থেকে একাধিক বিতর্ক, ঘন ঘন নীতিবদল এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা স্টারমারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। সম্প্রতি উপনির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জয়ী হওয়ার পর এই চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ মহল এবং প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সরাসরি স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্টারমার লেবার পার্টির নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানালেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। স্টারমার পদত্যাগ করলে গত ১০ বছরের ইতিহাসে তিনি হবেন ষষ্ঠ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, যিনি মেয়াদ পূরণের আগেই দায়িত্ব ছাড়ছেন। এর আগে ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনক একইভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

ব্রিটেনে বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলের নেপথ্য কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেনের এই ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দেশটির বিশেষ সংসদীয় ব্যবস্থা। ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত হন না, বরং দলীয় সাংসদদের সমর্থনে নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী, দলের সাংসদরা মনে করলে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নতুন নেতা নির্বাচন করতে পারেন। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, ২০ শতাংশ সাংসদ বিরোধী অবস্থান নিলে নেতা অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। বর্তমানে স্টারমারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ সাংসদের সংখ্যা সেই সীমার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে দলীয় সমর্থন হারালে যেকোনো মুহূর্তে ক্ষমতার পতন ঘটা এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা ব্রিটেনের রাজনীতিতে এই অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *