দিল্লিতে জ্যান্ত শিশুর ‘বাজার’, লাখ লাখ টাকায় সদ্যোজাত বিক্রির হাড়হিম করা চক্রের পর্দাফাঁস

দেশের রাজধানী দিল্লিতে রীতিমতো পণ্যের মতো ‘প্রাইস ট্যাগ’ লাগিয়ে সদ্যোজাত শিশুদের বিক্রি করার এক ভয়ংকর আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের সন্ধান মিলেছে। কন্যাসন্তানের দাম ৩ থেকে ৫ লাখ এবং পুত্রসন্তানের দাম ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করে চলছিল এই ব্যবসা। এক সাধারণ নাগরিকের সততা ও পুলিশের সুনির্দিষ্ট ফাঁদের মুখে অবশেষে গুঁড়িয়ে গেছে এই চক্রের নেটওয়ার্ক। এই অভিযানে ৫ সদ্যোজাত শিশুকে উদ্ধারের পাশাপাশি চিকিৎসক ও দালালসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।
যেভাবে চলত এই অন্ধকার কারবার
তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটির জাল ভারতের একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত ছিল। মূলত রাজস্থান ও গুজরাটের আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও প্রান্তিক পরিবারগুলোকে টার্গেট করত পাচারকারীরা। সেখান থেকে টাকার প্রলোভনে শিশুদের সংগ্রহ করে দিল্লি-এনসিআরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হতো। এই অবৈধ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে তৈরি করা হতো জাল চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র, ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ও মিথ্যা পরিচয়পত্র। এমনকি সন্তানহীন নারীদের ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে ভুয়ো গর্ভাবস্থার নাটক সাজিয়ে হাসপাতালের কাগজপত্র জালিয়াতি করত এই চক্রের সাথে যুক্ত অসাধু চিকিৎসকেরা।
সন্দেহ থেকে পুলিশের অভিযান
দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার এক সাধারণ নাগরিকের তৎপরতায় এই অপরাধের সূত্রপাত মেলে। ওই এলাকায় এক নারীকে প্রায়শই নতুন নতুন শিশুর সাথে দেখতে পেয়ে তাঁর সন্দেহ হয় এবং তিনি পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ টানা ১৫ দিন ওই নারীর ওপর কড়া নজরদারি চালায় এবং ক্রেতা সেজে ফাঁদ পাতে। এর ফলেই চক্রের মূল মাথাদের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ৫টি শিশুর বয়স ৫ দিন থেকে ৪ মাসের মধ্যে। বর্তমানে তাদের নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশের অনুমান, গত কয়েক বছর ধরে সক্রিয় এই চক্রটি অন্তত ৩০টি শিশুকে এভাবে পাচার করেছে। অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে যে পরিবারগুলো নিজেদের সন্তান বিক্রি করেছে, তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এই চক্রের সাথে যুক্ত বাকি অপরাধীদের ধরতে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।