৫৩৪ কোটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, চিটফান্ড যোগের বিস্ফোরক দাবিতে খাদের কিনারে তৃণমূল!

৫৩৪ কোটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, চিটফান্ড যোগের বিস্ফোরক দাবিতে খাদের কিনারে তৃণমূল!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই এবার সামনে এল এক নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারি ও নেতৃত্বের তীব্র সংঘাত। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের দেওয়া একটি চিঠি শাসক শিবিরের অন্দরে বড়সড় ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। এর জেরে তৃণমূলের প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। দলের পক্ষ থেকে অরূপ বিশ্বাসকে শোকজ করা হলে, পাল্টা চিঠিতে তিনি চিটফান্ডের টাকা নয়ছয় এবং দলীয় তহবিলের ব্যয়ে ব্যাপক অসঙ্গতির মতো একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম রাজনৈতিক ও আইনি চাপে ফেলে দিয়েছে।

দলীয় তহবিলের টাকা নয়ছয় ও কোষাধ্যক্ষের বিদ্রোহ

যুবভারতীতে লিওনেল মেসি কাণ্ড নিয়ে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়া অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে গভীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল। অরূপ বিশ্বাসের দাবি, দলের কোষাধ্যক্ষ পদে থাকা সত্ত্বেও কোন খাতে কত টাকা খরচ করা হচ্ছে, তা তাঁকে বিন্দুমাত্র অবগত করা হতো না। আগে থেকে সই করা চেকের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেনে বিস্তর অসঙ্গতি ছিল এবং সেখানে চিটফান্ডের টাকাও নয়ছয় করা হয়েছে। এই আর্থিক অস্বচ্ছতার দায় এড়াতেই তিনি গত ১৬ জুন ব্যাঙ্ককে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার অফিশিয়াল অনুরোধ জানান। এর পরই তাঁকে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং অরূপের বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের জল্পনা তীব্র হয়।

৫৩৪ কোটি টাকা নিয়ে দড়িটানাপোড়েন ও চরম সংকট

দলীয় সূত্রের খবর, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা রয়েছে। বিধানসভায় দলের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করার পর, এই বিপুল অঙ্কের অর্থের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব এই টাকা অন্য একটি বন্ধু রাজনৈতিক দলে সাময়িকভাবে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চাপে অরূপ বিশ্বাস অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করে দেন। এই ঘটনার ফলে তৃণমূল কংগ্রেস শুধু রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়েই নয়, বরং নিজেদের আর্থিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক গভীর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সংকটে পড়েছে। বিপুল সংখ্যক বিধায়ক ও সাংসদের প্রকাশ্যে বিদ্রোহ এবং আর্থিক অচলাবস্থা দলটির ভবিষ্যৎকে এক বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *