ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে মুখ খুললেন নেতানিয়াহু, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ!

দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ আমেরিকা ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আকস্মিক ফাটল ধরার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এবার কোনো রাখঢাক না রেখেই প্রকাশ্য মন্তব্য করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাধীন দেশের ভিন্ন মতের প্রকাশ
সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল পলিসি কমিটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্যের বিষয়টি সরাসরি সামনে আনেন। তিনি জানান যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সব কথা শোনেন না, আবার তিনিও ট্রাম্পের সব কথা শোনেন না। তাঁরা দু’জন আলাদা ও স্বাধীন দেশের নেতা হওয়ায় মাঝেমধ্যে তাঁদের মতামতের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ঠিক কোন নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন তা খোলসা না করলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের একাধিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরই এই দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে।
ইরান নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য প্রভাব
আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মূল কারণ ও এর সম্ভাব্য প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একদিকে হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কারণে ইজরায়েল প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে, যা মোকাবিলায় তারা ওয়াশিংটনের পূর্ণ সমর্থন প্রত্যাশা করে। অন্যদিকে, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চলমান শান্তি আলোচনা হঠাৎ করেই গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গতকাল শান্তি বৈঠকের ঠিক আগেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, হিজবুল্লাহ অশান্তি বন্ধ না করলে মার্কিন বাহিনী ইরানে আগের চেয়েও জোরালো হামলা চালাবে। এই হুমকিমূলক বার্তার পরপরই ইরানি প্রতিনিধিদল ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যায় এবং শান্তি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে।
আমেরিকা ও ইরানের এই নতুন সংঘাত এবং একই সময়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার প্রকাশ্য বাক্যবিনিময় পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। ট্রাম্পের কড়া সামরিক অবস্থান এবং ইজরায়েলের অনমনীয় মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে।