প্রেমের চরম শাস্তি! ‘সম্মানরক্ষায়’ দুই নাবালিকা মেয়েকে চম্বল নদীতে ছুঁড়ে ফেলল খোদ বাবা

ঢোলপুর (রাজস্থান): পরিবারের ‘সম্মান’ বাঁচাতে দুই নাবালিকা মেয়েকে জীবন্ত অবস্থায় নদীতে ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল খোদ বাবা ও দাদার বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ‘অনার কিলিং’ (Honour Killing)-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজস্থানের ঢোলপুর জেলায়। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল? ঢোলপুর জেলার সদর থানা এলাকার ফারকপুরা গ্রামের বাসিন্দা ভরত লোধার দুই নাবালিকা কন্যা বেশ কিছুদিন ধরে নিখোঁজ ছিল। এই ঘটনায় গত সপ্তাহে একটি গ্রামসভা ডাকা হয়। সেখানে ভরত দাবি করেন, তাঁর দুই মেয়ে দুর্ঘটনাবশত চম্বল নদীতে পড়ে গিয়েছে।
কিন্তু এত বড় ঘটনা এতদিন কেন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে গ্রামবাসীদের মনে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়। এক আত্মীয় দাবি করেন, গত ১১ জুন ভরত লোধা তার স্ত্রী, ছেলে ও ভাই মিলে গাড়িতে করে বেরিয়েছিল এবং তারপর থেকেই দুই মেয়ে নিখোঁজ। এরপরই গ্রামবাসীরা পুলিশে খবর দেন।
খুনের নেপথ্যে প্রেমঘটিত কারণ? শনিবার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান ঢোলপুরের পুলিশ সুপার বিকাশ সাঙ্গওয়ান। শুরু হয় তদন্ত। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ও জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—
- নিখোঁজ দুই নাবালিকা বোন স্থানীয় দুই তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিল, যা পরিবার মেনে নিতে পারেনি।
- সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় ওই দুই কিশোরীর ওপর এর আগেও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
- পুলিশের সন্দেহ, আক্রোশের বশেই দুই বোনকে চম্বল নদীর ওপর একটি সেতু থেকে সটান নীচে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে।
বর্তমানে অভিযুক্ত বাবা ভরত লোধা এবং তাঁর ছেলেকে আটক করে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ওই দুই নাবালিকার খোঁজে চম্বল নদীতে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।