ট্রাম্পের চরম হুমকিতে ভেস্তে গেল সুইজারল্যান্ডের শান্তি বৈঠক, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান স্তম্ভিত!

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শান্তি বৈঠক বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ও কঠোর সামরিক হুমকির জেরে ক্ষুব্ধ ইরানি প্রতিনিধিরা আলোচনার মাঝপথেই কক্ষ ত্যাগ করেন। পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই ঐতিহাসিক উদ্যোগটি শুরুর মাত্র ৮০ মিনিটের মাথায় এমন নাটকীয় পরিস্থিতির মুখে পড়ায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফার সমঝোতাপত্র (মউ) বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে রবিবার সুইজারল্যান্ডের একটি রিসর্টে বৈঠকে বসেছিলেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি এবং মার্কিন দলের পক্ষে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রথম দফার আলোচনা বেশ সুষ্ঠুভাবে এগোলেও একটি বিরতির সময় লেবানন ইস্যু নিয়ে তেহরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানান, লেবাননে ইরান সমর্থিত হেজবুল্লাসহ অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো অশান্তি না থামালে ইরানের ওপর আগের চেয়েও বড় ও জোরালো হামলা চালানো হবে। এই হুমকির পরই ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান ইরানি প্রতিনিধিরা, যা দেখে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার পুরোপুরি হতবাক হয়ে পড়ে।
মতপার্থক্য ও ভেস্তে যাওয়ার কারণ
দুই দেশের মধ্যে শান্তি ফেরাতে যে ১৪টি শর্ত ঠিক হয়েছিল, তার মধ্যে প্রধান ছিল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখা। তবে লেবানন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কাটেনি। আলোচনার মাঝেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স যখন ওয়াশিংটনের কঠোর বার্তাটি তেহরানের সামনে তুলে ধরেন এবং ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বিবৃতি সামনে আসে, তখনই কূটনীতির পরিবেশ নষ্ট হয়। মূলত আমেরিকার এই দ্বিমুখী অবস্থান—একদিকে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রস্তাব এবং অন্যদিকে সরাসরি সামরিক হামলার হুমকিই বৈঠক ভঙ্গের মূল কারণ।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও আশার আলো
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের গ্যারান্টি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দাবি করেছেন, লেবানন ও হরমুজ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চরম উত্তেজনা সত্ত্বেও শান্তি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়নি এবং সোমবারই দু’পক্ষ আবারও আলোচনায় বসতে পারে বলে জানা গেছে।