চাকরিপ্রার্থীদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা! রাজ্য বাজেটে শিক্ষায় বিরাট চমক অর্থমন্ত্রীর

কলকাতা: রাজ্য বাজেটে শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য কার্যত কল্পতরু হলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান— সব মিলিয়ে এবারের বাজেটে একগুচ্ছ যুগান্তকারী ঘোষণা করেছে রাজ্য।
শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্য বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় ঘোষণাসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. চাকরিপ্রার্থী ও উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তা
- ৩০ হাজার টাকা অনুদান: সরকারি বা সরকারপোষিত কলেজের যে সমস্ত পড়ুয়ারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (Competitive Exams) প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এই খাতে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- বিদেশে পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচ: বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে (QS World Ranking অনুযায়ী) আন্ডার গ্রাজুয়েশন বা মাস্টার্স কোর্সে সুযোগ পেলে, পড়ুয়াদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও স্বাস্থ্য বিমার খরচ বহন করবে রাজ্য। এটি ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’-এর আওতায় দেওয়া হবে। জাতীয় স্তরের প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেলেও মিলবে বিশেষ আর্থিক সাহায্য।
২. নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
- উত্তরবঙ্গে IIT ও IIM: কারিগরি ও ম্যানেজমেন্ট শিক্ষার প্রসারে ভারত সরকারের সহায়তায় উত্তরবঙ্গে একটি আইআইটি (IIT) এবং একটি আইআইএম (IIM) স্থাপন করা হবে।
- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকীকরণ: আগামী ৫ বছরে কেন্দ্র (১,০০০ কোটি) ও রাজ্যের (২০০ কোটি) যৌথ অর্থায়নে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘Institute of Excellence’-এ উন্নীত করা হবে।
- অটল টিংকারিং ল্যাব ও PM-SHRI: পড়ুয়াদের রোবোটিক্স এবং কোডিং শেখাতে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১,০০০টি স্কুলে ‘অটল টিংকারিং ল্যাব’ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নে বাস্তবায়িত হবে ‘PM-SHRI’ প্রকল্প।
- নবোদয় ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়: দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মালদহ, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব বর্ধমানে ৪টি নবোদয় বিদ্যালয় এবং ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়াতে দুটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের জন্য জমি দেবে রাজ্য সরকার।
- বিনামূল্যে কোচিং: IIT, JEE, NEET বা সিভিল সার্ভিসের মতো পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ খোলা হবে।
৩. ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে (STEM) ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিটি জেলায় পিপিপি (PPP) মডেলে বিশেষ হস্টেল তৈরি হবে।
- নারীশিক্ষার প্রসারে কাঁথি, কালিয়াচক, জঙ্গিপুর, সাগর, তুফানগঞ্জ এবং ফলতায় নতুন ৬টি মহিলা কলেজ তৈরি করা হবে।
- রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
৪. মিড-ডে মিল ও স্কুল পরিকাঠামোয় বড় রদবদল
- বরাদ্দ ও ভাতা বৃদ্ধি: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের খরচ ছাত্রপ্রতি ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হলো। রান্নার সহায়িকাদের (Cook-Cum-Helper) মাসিক ভাতাও একধাক্কায় ১,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
- ইসকনের (ISKCON) সাহায্য: কলকাতা পুরসভা এলাকায় স্কুল পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করতে ইসকনের সঙ্গে যৌথভাবে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে।
- পানীয় জল ও বিদ্যুৎ: সমস্ত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে ওয়াটার পিউরিফায়ার, গ্যাস কানেকশন, সোলার প্লেট এবং বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে রাঢ় অঞ্চল বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে।
এছাড়াও, রাজ্যের আইটিআই (ITI)-গুলির আধুনিকীকরণের জন্য ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘PM-SETU’ প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। সব মিলিয়ে এই বাজেট রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।