এবার কল্যাণীতেই দ্বিতীয় গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর, জেওয়ার মডেলে তৈরি হচ্ছে বাংলার নতুন অ্যাভিয়েশন হাব!

এবার কল্যাণীতেই দ্বিতীয় গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর, জেওয়ার মডেলে তৈরি হচ্ছে বাংলার নতুন অ্যাভিয়েশন হাব!

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগামহীন ভিড় এবং পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে অবশেষে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চাপ কমাতে উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় যেভাবে মেগা ‘জেওয়ার বিমানবন্দর’ তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই আন্তর্জাতিক গ্রিনফিল্ড মডেলকেই এবার অনুসরণ করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গের আঞ্চলিক অর্থনীতিতে জোয়ার আনতে এবং কলকাতার বিকল্প প্রবেশদ্বার হিসেবে নদিয়ার কল্যাণীর কাছে একটি সম্পূর্ণ নতুন ‘গ্রিনফিল্ড’ বিমানবন্দর স্থাপনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।

ল্যান্ড-লকড দমদমের বিকল্প কেন কল্যাণী

কলকাতা বিমানবন্দর বর্তমানে চারদিক থেকে বহুতল এবং জনবসতি দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই ল্যান্ড-লকড পরিস্থিতির কারণে বর্তমান রানওয়ে সম্প্রসারণ করা বা সমান্তরাল দ্বিতীয় রানওয়ে তৈরি করা একপ্রকার আসাম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিকাঠামোগত জটিলতা দূর করতে কল্যাণীকে বেছে নেওয়ার পিছনে রয়েছে এক দূরদর্শী ভৌগোলিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে এবং নতুন কানেক্টিভিটি করিডোরের কল্যাণে কলকাতা থেকে এখন মাত্র এক-দেড় ঘণ্টাতেই কল্যাণীতে পৌঁছানো সম্ভব। নতুন এই বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্য ১,০০০ থেকে ১,৫০০ একর জমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শনাক্ত করার কাজ শুরু হতে চলেছে। জমির এই সুবিশাল পরিমাণই স্পষ্ট করে দেয় যে, এটি কেবল অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিমান ওঠানামার উপযোগী এক সুবিশাল ‘অ্যাভিয়েশন হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।

অর্থনৈতিক বিকাশ ও বাণিজ্যের নতুন করিডোর

১,৫০০ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত এই গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরটি চালু হলে তা সমগ্র পূর্ব ভারতের অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। জেওয়ার বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে নয়ডায় যেমন ফিল্ম সিটি বা লজিস্টিক পার্কের মতো শিল্পের ঢল নেমেছে, কল্যাণীতেও তার প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে। এই প্রকল্পের কারণে মূলত যে প্রভাবগুলো পড়তে চলেছে:

  • বাণিজ্যের প্রসার: আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কার্গো (পণ্য পরিবহণ) ব্যবসার এক অভাবনীয় উন্নতি ঘটবে, যা সরাসরি বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের প্রধান করিডোর হিসেবে কাজ করবে।
  • শিল্পের বিকাশ: কল্যাণী ও তার আশেপাশের অঞ্চল ইতিমধ্যেই আইটি এবং মেডিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে উঠছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে এখানে লজিস্টিক পার্ক, হোটেল এবং নতুন আনুষঙ্গিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে।
  • কর্মসংস্থান ও আবাসন: এই মেগা প্রজেক্টের বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা দক্ষিণবঙ্গের রিয়েল এস্টেট, পর্যটন এবং লজিস্টিক শিল্পকে এক ধাক্কায় অনেকখানি এগিয়ে দেবে।

জমি চিহ্নিতকরণের এই প্রস্তাব যদি দ্রুত আইনি জটমুক্ত হয়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা কেবল কলকাতা বিমানবন্দরের কার্যক্ষমতার চাপই দূর করবে না, বরং সামগ্রিক শিল্পায়নের আকাশেও এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *