১০ কোটিতে এয়ারপোর্টের স্বপ্ন! সংখ্যালঘু বাজেট ছাঁটাই নিয়ে বিধানসভায় একজোট আদি-নব্য তৃণমূল

১০ কোটিতে এয়ারপোর্টের স্বপ্ন! সংখ্যালঘু বাজেট ছাঁটাই নিয়ে বিধানসভায় একজোট আদি-নব্য তৃণমূল

বিধানসভায় নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা এই বাজেটকে ঘিরে কালীঘাট-পন্থী মূল তৃণমূল এবং দল থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী বিধায়কদের মধ্যে কার্যত এক অভূতপূর্ব সুর মিলেছে। মূলত সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের বরাদ্দ কমানো এবং পরিকাঠামো খাতের অস্বচ্ছতা নিয়ে দুই শিবিরই একজোট হয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে।

পরিকাঠামো ও বিমানবন্দর নিয়ে প্রশ্ন

বাজেট পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পরিকাঠামো নির্মাণের নির্দিষ্ট বরাদ্দের অভাব নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি পরিকাঠামো খাতের অঙ্ক অস্পষ্ট থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য মাত্র ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সামান্য টাকায় কীভাবে বিমানবন্দর নির্মাণ সম্ভব! যদিও বিরোধী দলের নেতা হয়েও তিনি সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধি, নতুন জেলা গঠন, মদের দোকানের লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম এবং চা বাগানের জমি সুরক্ষার মতো ইতিবাচক পদক্ষেপগুলিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সংখ্যালঘু বরাদ্দে কোপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক দানা বেঁধেছে সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের বরাদ্দ ছাঁটাই নিয়ে। বিধানসভায় বিরোধী তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান এই সিদ্ধান্তকে বিমাতৃসুলভ আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে কালীঘাট-পন্থী তৃণমূল নেতা মদন মিত্রও শাসকদলের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, এই বাজেট প্রমাণ করে যে সরকার আদতে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং সকলের উন্নয়ন চাইছে না।

সংখ্যালঘু খাতে এই বাজেট হ্রাসের কারণে রাজ্যের একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে বঞ্চনার ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আগামী দিনে শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। অন্যদিকে, এই নির্দিষ্ট ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভার অন্দরে যুযুধান দুই তৃণমূল শিবিরের এই সাময়িক ঐক্য রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী পরিসরকে এক নতুন মাত্রা এনে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *