রাজ্য বাজেটে মহিলাদের জয়জয়কার, আর্থিক সুরক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে বড় চমক!

নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে নারী ক্ষমতায়নে অভূতপূর্ব জোর দেওয়া হল। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা এই বাজেটে মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত ভোটের আগে নারী সুরক্ষা ও উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত করতেই এই বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
আর্থিক স্বনির্ভরতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জোর
মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’, যেখানে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এর জন্য চলতি অর্থবর্ষে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা এবং আশাকর্মীদের বেতন ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধার্থে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আসছে বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’। স্বাস্থ্যখাতেও বিশেষ নজর দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েদের জন্য ২১ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ছ’টি পুষ্টি কিট দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমাও নিশ্চিত করেছে সরকার।
শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত
উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীদের উৎসাহ দিতে অবিবাহিত মেয়েরা স্নাতক স্তরে ভর্তি হলেই এককালীন ৫০ হাজার টাকা পাবেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে কর্মসংস্থানে। রাজ্যের এক লক্ষ শূন্যপদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩৩ হাজার চাকরি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। নারী সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করতে মহিলা পুলিশদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। মাতঙ্গিনী হাজরা ও রানি শিরোমণির নামে দু’টি মহিলা ব্যাটালিয়ন এবং প্রতিটি মহকুমায় অন্তত একটি মহিলা পরিচালিত থানা ও নারী সহায়তা ডেস্ক গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মহিলাদের স্বনির্ভর করতে ক্লাউড কিচেন নীতি এবং ২ লক্ষ যুবক-যুবতীর জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ঋণের (যার অর্ধেক অনুদান ও বাকি অর্ধেক সুদমুক্ত ঋণ) সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে এই বাজেট একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এই প্রকল্পগুলির সঠিক রূপায়ণ হলে রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় মহিলাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।