ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে আর্থিক দুর্নীতি! সাময়িক স্বস্তি পেলেও হাইকোর্টের কড়া তোপের মুখে ইন্দ্রনীল

ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে আর্থিক দুর্নীতি! সাময়িক স্বস্তি পেলেও হাইকোর্টের কড়া তোপের মুখে ইন্দ্রনীল

কলকাতার দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইউনেস্কোর হেরিটেজ লোগো ব্যবহার করে ‘ডোনার পাস’ বিক্রির অভিযোগে সাময়িক স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যের তরফে মৌখিকভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। তবে এই স্বস্তির মাঝেই ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে আদালত তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।

বাণিজ্যিকীকরণে ক্ষুব্ধ আদালত

মামলার শুনানিতে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহারের নির্দিষ্ট শর্ত ও মর্যাদা রয়েছে। ডোনার পাস ইস্যু করে টাকা নেওয়ার অর্থই হলো শর্ত ভেঙে বিষয়টির বাণিজ্যিকীকরণ করা। এই উৎসবের নামে ঠিক কত টাকা আদায় করা হয়েছে, তা রাজ্যকে সুনির্দিষ্টভাবে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজ্যের পাবলিক প্রসিকিউটরও জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে।

ইউপিআই লেনদেন ও সম্ভাব্য প্রভাব

অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড পুজো এন্ট্রি’র টিকিট বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। ইউপিআই-এর মাধ্যমে সরাসরি বিপুল অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রচার এমনভাবে করা হয়েছিল যাতে মনে হয় এর সঙ্গে ইউনেস্কোর সরাসরি অনুমোদন রয়েছে, যদিও বাস্তবে ইউনেস্কো এ ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তিতে কোনও সম্মতি দেয়নি বলে নথিপত্র জমা পড়েছে আদালতে। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যটনের নামে এই ধরনের বেআইনি বাণিজ্যিক মডেল তৈরি ও অর্থ সংগ্রহ কলকাতার দুর্গাপুজোর বিশ্বজোড়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *