‘বহিষ্কৃত ঋতব্রত মমতাকে সরাবে? হাসি পাচ্ছে!’ দল দখলের নাটকে তুলোধনা কুণালের

কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে সপ্তাহের প্রথম দিনেই ঘটে গেল এক নজিরবিহীন নাটক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে তৈরি দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর এবার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করল ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী। শুধু তাই নয়, নিউটাউনের এক পাঁচতারা হোটেলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ডেকে খোদ মমতাকে সভানেত্রীর পদ থেকে অপসারণ করার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। আর এই খবর ছড়াতেই ঋতব্রত শিবিরকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শালেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
‘চাটন ঋত নিজেই বহিষ্কৃত!’
ঋতব্রতর এই পদক্ষেপকে এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি দল থেকে সরানো হয়েছে! শুনলে শুধুই হাসি পায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও পদের মোহতাজ নন, তিনি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। আর ঋতব্রত তো নিজেই দল থেকে বহু আগে বহিষ্কৃত হয়েছেন। ও আসলে চাটন ঋত! একজন নিজে যে দল থেকে বহিষ্কৃত, সে অন্য কাউকে কী করে বহিষ্কার করে?”
টাকার উৎস নিয়ে ফের তোপ
কুণাল ঘোষ ঋতব্রতর অতীত মনে করিয়ে দিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “কত বড় মাপের বেইমান হলে মানুষ এমন করতে পারে! যে অ্যাকাউন্টের টাকা খারাপ ও বেআইনি বলে ও এখন নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে, মাত্র এক মাস আগেই সেই অ্যাকাউন্টের ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েই ও নিজে নির্বাচন লড়েছে। তখন টাকাটা খারাপ ছিল না? আজ ক্ষমতা হারাতেই খারাপ হয়ে গেল?”
‘অন্যের টাকায় ফাইভ স্টারে বসে ষড়যন্ত্রী’
কুণাল অভিযোগ করেন, এই গোষ্ঠী সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অন্য শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পিছন থেকে ছুরি মারছে। তাঁর সাফ কথা, “তোমরা যদি এতটাই বীর পুরুষ হও, তবে নিজেদের ক্ষমতায় লড়াই করো। অন্যের টাকায় ফাইভ স্টার হোটেলে গিয়ে কেন বৈঠক করছ? এর থেকেই পরিষ্কার যে এর পিছনে বড় কোনও আর্থিক মদত ও চক্রান্ত রয়েছে। এরা আসলে দালালি করতে নেমেছে।” তবে এই সমস্ত নাটকে তাঁরা বিন্দুমাত্র বিচলিত নন বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন কুণাল।