বাংলায় কত ‘খারিজি’ মাদ্রাসা? ইউপি মডেলে কড়া ব্যবস্থার পথে সরকার, তলব রিপোর্ট

বাংলায় কত ‘খারিজি’ মাদ্রাসা? ইউপি মডেলে কড়া ব্যবস্থার পথে সরকার, তলব রিপোর্ট

কলকাতা: রাজ্যের স্বীকৃতিহীন, অনিবন্ধিত এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলির ওপর এবার কড়া নজরদারি শুরু করতে চলেছে সরকার। সরকারি নির্দেশ না মানলে বা তথ্য গোপন করলে উত্তরপ্রদেশ (UP) মডেলের ধাঁচে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া বা বেআইনি পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?

ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে এই ধরনের মাদ্রাসাগুলির তালিকা তৈরির কাজ জোরকদমে শুরু হয়েছে।

  • গত ৫ জুন সমস্ত জেলা শাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা নিজেদের জেলার সমস্ত অনিবন্ধিত, স্বীকৃতিহীন এবং সরকারি অনুদানবিহীন মাদ্রাসার বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করেন।
  • আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে সেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট নবান্নে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • রিপোর্ট পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের অর্থের উৎস, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পড়ুয়াদের সমস্ত নথি জমা দিতে হবে। তথ্য দিতে অস্বীকার করলে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ?

প্রশাসনের এই পদক্ষেপের অন্যতম বড় কারণ হলো ‘নিরাপত্তা’। অতীতে ২০১৪ সালের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দাবি করেছিল, সীমান্তবর্তী এলাকার বেশ কিছু স্বীকৃতিহীন বা তথাকথিত ‘খারিজি’ মাদ্রাসাকে চরমপন্থী সংগঠনগুলি নিজেদের কার্যকলাপের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে। সরকারি মহলের একাংশের দাবি, আগে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, কিন্তু বর্তমান সরকার নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করতে রাজি নয়।

প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশের আদলে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে এই মাদ্রাসাগুলির অর্থের উৎসও খোঁজা হতে পারে।

রাজ্যে মাদ্রাসার ধরন:

বর্তমানে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা: রাজ্যের আর্থিক সহায়তায় স্কুলশিক্ষা পর্ষদের পাঠ্যক্রম মেনে চলে।
  2. স্বীকৃত কিন্তু অনুদানবিহীন: পাঠ্যক্রম এক হলেও সরাসরি সরকারি অর্থ পায় না।
  3. অনিবন্ধিত বা স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসা: এর পাশাপাশি রয়েছে ‘খারিজি’ মাদ্রাসা, যেগুলি মূলত ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং এদের কোনও নির্দিষ্ট সরকারি বোর্ড নেই। এদের পাঠ্যক্রম ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও মৌলভি তৈরির ওপর নির্ভরশীল।

অতীতের বামফ্রন্ট বা তৃণমূল সরকার এই মাদ্রাসাগুলিকে সরকারি কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা করলেও, আর্থিক ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশ্যে আসার ভয়ে অনেকেই আবেদন করেনি। ফলে রাজ্যে ঠিক কতগুলি এমন মাদ্রাসা চলছে, তার সঠিক তথ্য সরকারের কাছে নেই। এই সমীক্ষার মাধ্যমেই সেই তথ্য তুলে আনতে চাইছে প্রশাসন। তবে মাদ্রাসা মহলের একটি অংশের মতে, স্বচ্ছতা বজায় রেখে সরকার যদি নজরদারি চালায়, তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *