মাত্র ২০ টাকায় কচুরি, ৫০-এ বিরিয়ানি! স্টেশনে হকার রাজ হটিয়ে রেলের ‘ফুড অন ট্র্যাক’

মাত্র ২০ টাকায় কচুরি, ৫০-এ বিরিয়ানি! স্টেশনে হকার রাজ হটিয়ে রেলের ‘ফুড অন ট্র্যাক’

কলকাতা: ট্রেন ঢোকার মুখে তাড়াহুড়োয় ট্রেনের খাবার কেনা বা হকারদের থেকে দরদাম করার ঝঞ্ঝাট এবার অতীত হতে চলেছে। শিয়ালদহ, হাওড়া ও কলকাতা স্টেশনে যাত্রীদের সস্তায় ও স্বাস্থ্যকর খাবার দিতে এবার ‘ফুড অন ট্র্যাক’ (Food on Track) নামাচ্ছে রেল। দেখতে আইসক্রিম ভ্যানের মতো এই ভ্রাম্যমাণ ফুড স্টলগুলোতে মিলবে কলকাতার সেরা স্ট্রিট ফুড, তা-ও আবার বাজারদরের চেয়ে ২০-৩০% কম দামে!

রেট চার্ট একনজরে:

রেল ভতুর্কি দেওয়ায় খাবারের দাম রাখা হয়েছে একদম পকেট ফ্রেন্ডলি—

  • সকালের টিফিন: ৫ টাকায় লিকার চা, ১০ টাকায় দুধ চা, ২০ টাকায় ৪ পিস কচুরি-তরকারি, ২৫ টাকায় রুটি-তরকারি।
  • দুপুর ও রাতের খাবার: ৫০ টাকায় চিকেন বিরিয়ানি, ৪০ টাকায় ভেজ বিরিয়ানি, ৩৫ টাকায় ভাত-ডাল-আলুভাজা থালি।
  • স্ন্যাকস ও মিষ্টি: ৩০ টাকায় এগ রোল বা চাউমিন, ৪০ টাকায় চিকেন রোল, ২০ টাকায় সিঙ্গারা। ল্যাংচা ১০ টাকা ও রসগোল্লা ১৫ টাকা।

৩টি বড় বদল যা যাত্রীদের সুবিধা দেবে:

১. হকারও বাঁচল, যাত্রীও বাঁচল: প্ল্যাটফর্ম থেকে হকার উচ্ছেদ না করে তাঁদেরই লাইসেন্স, ইউনিফর্ম, ট্রেনিং ও হেলথ কার্ড দিয়ে এই ভ্যান চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা: প্রতিটি ভ্যানে FSSAI লাইসেন্স ও সিসিটিভি বাধ্যতামূলক। মিনারেল ওয়াটারে রান্না হবে এবং বড় করে দাম লেখা থাকবে।

৩. ক্যাশলেস পেমেন্ট: খুচরো টাকার ঝামেলা এড়াতে ইউপিআই (UPI), কার্ড বা রেলের UTS অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে টাকা দেওয়া যাবে। বিল চলে যাবে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে।

কোথায় কোথায় শুরু হচ্ছে?

প্রথম দফায় শিয়ালদহ মেইন, হাওড়া নিউ কমপ্লেক্স ও কলকাতা স্টেশনে ১০-১৫টি করে এই ভ্যান নামানো হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত এগুলো প্ল্যাটফর্মে ঘুরবে। দ্বিতীয় দফায় দমদম, সোনারপুর, বর্ধমান ও খড়গপুরে এই পরিষেবা চালু হবে। রেলের লক্ষ্য ২০২৬-এর পুজোর আগেই এই কাজ সম্পন্ন করা।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র জানিয়েছেন, “প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা রাখতেই এই চলমান ভ্যানের ব্যবস্থা। এগুলো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ভিড় বাড়াবে না, ট্রেন এলেই সরে যাবে।” ইতিমধ্যেই শিয়ালদহের ট্রায়াল রানে এই ভ্যানের চিকেন বিরিয়ানি মাত্র ১ ঘণ্টায় শেষ হয়ে গেছে, যা খাবারের স্বাদ ও গুণমান নিয়ে যাত্রীদের সংশয় দূর করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *