‘ডানা ছাঁটা’ হচ্ছে I-PAC-এর, খুলছে কালীঘাটের দরজা! দল বাঁচাতে মমতার নতুন স্ট্র্যাটেজি
June 24, 20268:12 am

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে তীব্র ভাঙন ও বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে, তা সামাল দিয়ে দলকে ফের ঘুরে দাঁড় করাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলতে কালীঘাটে শুরু হয়েছে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ।
সূত্রের খবর, দলের পুরোনো শক্তি ফিরিয়ে আনতে একাধিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের এই নতুন স্ট্র্যাটেজির মূল ভিত্তি হলো—
- I-PAC-এর ডানা ছাঁটা ও ক্যাডার মডেলে ফেরা:সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরেই রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। নেতাদের একাংশের দাবি, ২০১৯ সালের আগে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ আউটসোর্স করা হতো, কিন্তু পরে তা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যায়। তাই বাইরের সংস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দলকে ফের পুরোনো ‘ক্যাডার-ভিত্তিক’ সাংগঠনিক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- খুলছে কালীঘাটের দরজা, নিবিড় হবে জনসংযোগ:নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছেন টিএমসি চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র অনুযায়ী, রবিবার বাদে সপ্তাহের প্রতিদিন সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শীর্ষ নেতৃত্ব সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া কলকাতার তৃণমূল ভবনেও আরও একটি জনসংযোগ কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা চলছে।
- বিদ্রোহীদের নিয়ে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি:দলের অন্দরে চলা চোরা বিদ্রোহ সামলাতে আপাতত তড়িঘড়ি কোনও কড়া শাস্তির পথে হাঁটতে নারাজ শীর্ষ নেতৃত্ব। অত্যন্ত গুরুতর কোনও কারণ ছাড়া কাউকে এখনই শোকজ করা হচ্ছে না। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ (Wait and Watch) নীতি গ্রহণ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের এই চরম সংকটের মুহূর্তে বহিরাগত সংস্থার বদলে নিজেদের পুরোনো সাংগঠনিক শক্তি এবং সরাসরি জনসংযোগের ওপরেই ফের বাজি ধরতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।