আসল তৃণমূল কার হাতে! দলের সংবিধানে মমতার পাল্লাই ভারী

বাংলা তথা দেশের রাজনীতিতে এখন জোর চর্চা, প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস আসলে কাদের। কালীঘাট শিবির না কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চরম দ্বন্দ্ব। সম্প্রতি দুই পক্ষই নিজেদের মতো করে দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (NWC) গঠন করে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে। কালীঘাট শিবিরের কমিটিতে চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির তাঁকে অপসারিত করে অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ফলে দলের নির্বাচনী প্রতীক এবং ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে তীব্র আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
দলের গঠনতন্ত্রে মমতার শক্ত অবস্থান
তৃণমূলের সংবিধান অনুযায়ী এই লড়াইয়ে কালীঘাট শিবির অনেকটাই সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে। দলের ১২.এ (12.A) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয় ২০ জন সদস্য নিয়ে, যার মধ্যে চেয়ারপার্সন নিজেই অর্ধেকের বেশি সদস্য মনোনীত করার ক্ষমতা রাখেন। গত ২২ জুন কালীঘাট তৃণমূল নির্বাচন কমিশনকে তাদের পুনর্গঠিত কমিটির কথা জানিয়েছে, যা বিদ্রোহী শিবিরের পদক্ষেপের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, দলের সংবিধান অনুযায়ী চেয়ারপার্সন প্রতি পাঁচ বছর অন্তর প্রতিনিধিদের (ইলেক্টোরাল কলেজ) মাধ্যমে নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছেন এবং পরবর্তী নির্বাচন ২০২৭ সালে হওয়ার কথা। ফলে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া না মেনে, প্রতিনিধিদের মতামত ছাড়া বিদ্রোহী শিবিরের কমিটি গঠন এবং চেয়ারপার্সন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদ্রোহী শিবিরের সামনে আইনি জটিলতা
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পক্ষে ৬৫ জনেরও বেশি বিধায়ক থাকার দাবি করলেও, দলের প্রবীণ নেতাদের মতে অধিকাংশ বিদ্রোহী নেতাই দলের প্রতিনিধি (ডেলিগেট) নন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হলেও তাঁকে জানাতে হয় এবং প্রতিনিধিদের তলব করতে হয়। এক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়ার কোনোটিই মানা হয়নি। ফলে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন হিসেবে তুলে ধরার যে চেষ্টা ঋতব্রত শিবির করছে, তা দলের নিজস্ব নিয়মের গেরোতেই আটকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দুই শিবিরকেই এখন নির্বাচন কমিশন ও আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।