মাঝপথে টিউশন বন্ধ! সরকারি কড়াকড়িতে চরম বিপাকে দশম ও দ্বাদশের পড়ুয়ারা
কালনা: রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশিকায় আচমকাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন। আর এর জেরেই মাঝপথে চরম বিপাকে পড়েছে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী, বিশেষ করে আগামী বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। বোর্ড পরীক্ষার আগে এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে পড়ুয়া থেকে অভিভাবক—সবার কপালেই চিন্তার ভাঁজ।
কেন এই সমস্যা?
- ছন্দপতন: হঠাৎ করে পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুতির ছন্দে বড়সড় পতন ঘটেছে।
- বিকল্পের অভাব: গ্রামীণ এলাকায় ভালো কোচিং সেন্টারের তীব্র অভাব রয়েছে। যে কয়েকটি রয়েছে, সেখানে পড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য অনেকেরই নেই।
- সময়ের অভাব: বোর্ড পরীক্ষার আর এক বছরও বাকি নেই। এই অল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে ভালো শিক্ষক খুঁজে পাওয়া একপ্রকার আসাম্ভব বলে দাবি পড়ুয়াদের।
অভিভাবকদের ক্ষোভ ও যুক্তি:
- ‘ডাক্তাররা পারলে শিক্ষকরা নয় কেন?’ অভিভাবকদের একাংশের প্রশ্ন, সরকারি চিকিৎসকরা যদি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন, তবে শিক্ষকরা কেন পারবেন না?
- আরটিই (RTE) আইনের যুক্তি: শিক্ষার অধিকার আইন মূলত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রযোজ্য। তাহলে নবম থেকে দ্বাদশের ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেটে পড়ানোর ক্ষেত্রে কেন এই আপত্তি তোলা হচ্ছে?
- দাবি: অভিভাবকদের দাবি, চলতি বছরের জন্য অন্তত নিয়ম শিথিল করা হোক। অথবা, অন্তত অন্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর অনুমতি দেওয়া হোক শিক্ষকদের।
প্রশাসনের কড়া অবস্থান:
বাম বা আগের তৃণমূল আমলেও এই নির্দেশিকা জারি হয়েছিল, তবে তা কখনও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। কিন্তু গত ৪ জুন স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর নতুন করে নির্দেশিকা জারির পর প্রশাসন এবার অত্যন্ত কড়া। পূর্ব বর্ধমান জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিস থেকে প্রধান শিক্ষকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিয়ম অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও শিক্ষকদের সতর্ক করা হয়েছে। ফলে চাকরি বাঁচাতে স্কুলের বাইরে পড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকদের পরামর্শ:
- অ্যাডভ্যান্সড সোসাইটি ফর হেড মাস্টার্স অ্যান্ড হেড মিস্ট্রেসেস অ্যাসোসিয়েশন-এর কালনা মহকুমার সভাপতি শ্রীমন্ত ঘোষের মতে, পড়ুয়াদের উচিত স্কুলে শিক্ষকদের বেশি করে প্রশ্ন করে নিজেদের ডাউট ক্লিয়ার করা। প্রয়োজনে এলাকার যে মেধাবী ছেলেমেয়েরা এখনও চাকরি পাননি, তাঁদের কাছে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
- শিক্ষারত্ন প্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষক তাপসকুমার কার্ফার মতে, “স্কুলে পরীক্ষার দিন কমিয়ে কার্যকরী পঠন দিবস বাড়াতে হবে। তাহলেই ছাত্রছাত্রীরা আর টিউশনমুখী হবে না।”
- কালনার এক প্রধান শিক্ষক মৃণাল মুখোপাধ্যায় জানান, সরকারের নির্দেশিকা মানতেই হবে। তবে অন্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো যাবে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা এলে সুবিধা হয়।