বেতন ও ডিউটির দাবিতে জোড়া ধর্মঘট! জোড়া ফলায় বিদ্ধ আসানসোল পুরসভা
আসানসোল: এক দিকে আশা সুপারভাইজারদের লাগাতার কর্মবিরতি, অন্য দিকে কাজের সময়ের দাবিতে সাফাইকর্মীদের বিক্ষোভ। জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়ে রীতিমতো নাজেহাল আসানসোল পুরসভা। এই দুই ধর্মঘটের জেরে শহরের স্বাস্থ্য ও নিকাশি ব্যবস্থা কার্যত শিকেয় ওঠার জোগাড়।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অনড় আশা কর্মীরা:
মাসিক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বুধবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতির পথে হেঁটেছেন আসানসোল পুরসভার আশা সুপারভাইজাররা। এদিন তাঁরা পুরসভার হেলথ অফিসারকে তাঁর দপ্তরে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখেন।
- মূল দাবি: ২০১১ সাল থেকে তাঁরা মাত্র ৬২০০ টাকা বেতনে কাজ করছেন, যা দিয়ে বর্তমান সময়ে সংসার চালানো আসাম্ভব। বেতন না বাড়ানো পর্যন্ত তাঁরা কাজে যোগ দেবেন না।
- পোলিও কর্মসূচিতে প্রভাব: শনিবার শিশুদের পোলিও খাওয়ানোর কথা রয়েছে। আশা কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ না নিলে তা মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা।
- পুরসভার বক্তব্য: হেলথ অফিসার সোমনাথ মণ্ডল জানান, বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত, পুরসভার হাতে নেই। তিনি আশা কর্মীদের কাজে ফেরার আবেদন জানিয়েছেন এবং তাঁদের দাবিপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন।
কাজের সময়ের দাবিতে সাফাইকর্মীদের বিক্ষোভ:
আশা কর্মীদের পাশাপাশি বুধবার থেকে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন পুরসভার সাফাইকর্মীরাও। এর জেরে কুলটি বিধানসভা এলাকার (৮, ৯ এবং ১০ নম্বর বরো) ২৮টি ওয়ার্ডে সাফাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
- মূল দাবি: সাফাইকর্মীদের দাবি, তাঁরা দু’বেলা (সকাল ও বিকেল) কাজ করবেন না। কারণ তাতে তাঁদের ১২ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। এর বদলে তাঁরা প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এক টানা আট ঘণ্টা কাজ করতে চান।
- পুরসভার বক্তব্য: সাফাইকর্মীদের এই দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন পুরসভার সাফাই দপ্তরের আধিকারিকরা।
আপাতত এই দুই জোড়া ফলায় পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দ্রুত জট না কাটলে নাগরিক ভোগান্তি চরমে পৌঁছবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।