ইস্কন মানেই নিরামিষ, মিড-ডে মিলে ডিমের কী হবে! অর্থমন্ত্রীকে ভেবে দেখার আর্জি কুণালের

ইস্কন মানেই নিরামিষ, মিড-ডে মিলে ডিমের কী হবে! অর্থমন্ত্রীকে ভেবে দেখার আর্জি কুণালের

কলকাতা পৌরনিগম এলাকার স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের দায়িত্ব এবার দেওয়া হয়েছে ইস্কনকে। গত সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই ঘোষণা করার পর থেকেই রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। ইস্কনের খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ নিরামিষ হওয়ায়, পড়ুয়াদের পাতে আর ডিম পড়বে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

বিধানসভায় কুণাল ঘোষের উদ্বেগ

বুধবার বিধানসভায় বাজেট নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এই মিড-ডে মিল প্রসঙ্গ তুলে ধরেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, ইস্কন এবং তাদের প্রসাদের প্রতি সকলেরই যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে, কিন্তু শিশুদের পুষ্টি ও পছন্দের দিকটি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তিনি বলেন, বাচ্চাদের কাছে ডিমের একটি আলাদা আকর্ষণ থাকে। শুধু পুষ্টি নয়, অনেক সময় বাচ্চারা খাবার খেতে না চাইলেও ওই ডিমের আকর্ষণেই পেট ভরে খায়। ইস্কনকে দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ পুরো খাবারটি নিরামিষ হয়ে যাওয়া। তাই যে পড়ুয়ারা ডিম খেতে ভালোবাসে, তাদের কথা মাথায় রেখে অর্থমন্ত্রীকে পুরো বিষয়টি একবার ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

বিভ্রান্তি কাটাতে আসরে ইস্কন

বাজেট ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিড-ডে মিলের সম্ভাব্য মেনু নিয়ে নানা বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এই জল্পনার মাঝেই এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে মুখ খোলেন ইস্কন কলকাতার সহসভাপতি রাধারমণ দাস। তিনি স্পষ্ট জানান, মিড-ডে মিলে পড়ুয়াদের কী খাওয়ানো হবে সেই মেনু এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া তালিকাটি তাঁদের দেওয়া নয়। মেনু চূড়ান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

মূলত ইস্কনের আদর্শগত নিরামিষ নীতির সঙ্গে পড়ুয়াদের প্রোটিন-সমৃদ্ধ ডিম খাওয়ার সাধারণ অভ্যাসের সংঘাত থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। মিড-ডে মিল থেকে ডিম বাদ পড়লে একদিকে যেমন শিশুদের খাবার খাওয়ার উৎসাহ কমার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনই প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের পুষ্টির স্বার্থে সরকার এবং ইস্কন কর্তৃপক্ষ মিলে চূড়ান্ত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *