অমৃতার খোঁজে স্পেশাল টিম! শত শত ফোনেও অধরা মেয়ের হদিশ, হাল ছাড়ছেন না সিউড়ির বাবা

সিউড়ি: মাস তিনেক আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি বীরভূমের সিউড়ির তরুণী অমৃতা সিং। মেয়ের খোঁজে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে পথে পথে ঘুরছেন অসহায় বাবা অর্ধেন্দু সিং। সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর থেকেই তাঁর কাছে প্রতিদিন আসছে শত শত সান্ত্বনা ও সহানুভূতির ফোন। কিন্তু কেউই মেয়ের সঠিক খোঁজ দিতে পারছেন না। অন্যদিকে, তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবার বিশেষ দল (Special Team) গঠন করে তদন্তে নামল বীরভূম জেলা পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতি ও পুলিশের পদক্ষেপ:
বীরভূমের পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, নিখোঁজ ডায়েরির পাশাপাশি একটি এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়েছে। বীরভূম পুলিশের বিশেষ দলের পাশাপাশি সিআইডি (CID) এবং কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে।
- সিসিটিভি ও বাসের সূত্র: সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জেনেছে, অমৃতা সিউড়ি থেকে একটি বাসে উঠেছিলেন। ওই বাসের চালক ও কন্ডাক্টর জানিয়েছেন, সেদিনের সব মহিলা যাত্রী মল্লারপুরে নেমে যান। তাই মল্লারপুর, তারাপীঠ-সহ গোটা বীরভূম জুড়েই অমৃতার নিখোঁজ-পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।
- নথি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাই: বাড়ি ছাড়ার সময় অমৃতা নিজের কিছু নথি নিয়ে গিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাঁর আধার নম্বর ব্যবহার করে নতুন কোনও সিম তোলা হয়নি এবং ব্যাঙ্ক থেকেও কোনও টাকা তোলা হয়নি। পড়শি জেলা মুর্শিদাবাদ ও বাঁকুড়ার থানাগুলিতেও তরুণীর ছবি পাঠিয়ে অ্যালার্ট করা হয়েছে।
‘যত দিন না মেয়েকে পাচ্ছি, লড়াই চলবে’:
কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— অনেকেই ফোন করে অর্ধেন্দুবাবুকে সাহস জোগাচ্ছেন। সম্প্রতি বিধাননগরে এক ভবঘুরে তরুণীকে অমৃতা ভেবে খবর দেওয়া হলে, তিনি এক বুক আশা নিয়ে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন ওই তরুণী অমৃতা নন, ফলে ফের চোখে জল নিয়েই সিউড়ি ফিরতে হয় তাঁকে।
ক্লান্ত অথচ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাবা স্মিত হেসে জানান, “মুর্শিদাবাদ, শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে দার্জিলিং, আসাম, দিল্লি থেকেও মেয়ের জন্য ফোন আসছে। এত ফোনে কথা বলে ক্লান্ত হলেও ভালো লাগছে যে সবাই আমার মেয়েটার জন্য চিন্তিত। তবে যত দিন না মেয়েকে ফিরে পাচ্ছি, আমার এই লড়াই চলতেই থাকবে।”