সিলেবাসে ‘জরুরি অবস্থা’ ও ‘ফেক নিউজ’! পাঁচ দশক পর নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে বড় চমক NCERT-র

নয়াদিল্লি: ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম চর্চিত ও বিতর্কিত অধ্যায় ১৯৭৫ সালের ‘জরুরি অবস্থা’ (Emergency)। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর এবার সেই ইতিহাসই জায়গা করে নিল নবম শ্রেণির এনসিইআরটি (NCERT)-র পাঠ্যক্রমে। নতুন সমাজবিজ্ঞান বইয়ে এই সময়কালকে ভারতের গণতন্ত্রের সামনে আসা ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়াদের ভুয়ো খবর বা ‘ফেক নিউজ’-এর বিপদ সম্পর্কেও সচেতন করবে এই নতুন সিলেবাস।
নতুন পাঠ্যক্রমে কী কী যুক্ত হলো? NCERT-র নতুন পাঠ্যপুস্তক ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ (Understanding Society: India and Beyond)-এ এই বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
- জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপট: বইটিতে ১৯৭০-এর দশকের বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। কীভাবে ‘অভ্যন্তরীণ অশান্তি’র কারণ দেখিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল, মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল এবং সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল—তা বিস্তারিতভাবে পড়ানো হবে।
- প্রতিরোধ ও লোকনায়কের ভূমিকা: শুধু অন্ধকার দিকই নয়, সেই সময়কার রাজনৈতিক প্রতিরোধ এবং ‘লোকনায়ক’ জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বাধীন ছাত্র-যুব আন্দোলনের কথাও সযত্নে তুলে ধরা হয়েছে।
- গণতন্ত্রের জয়: ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে হওয়া সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ইন্দিরা সরকারের পতনকে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর শক্তির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বইটিতে।
রয়েছে ‘ফেক নিউজ’-এর বিপদ ও নাগরিক দায়িত্ব: শুধুমাত্র অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস নয়, বর্তমান সময়ের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জগুলি নিয়েও পড়ুয়াদের সচেতন করবে NCERT। নতুন সিলেবাসে ভুয়ো খবর (Fake News), বিভ্রান্তিকর তথ্য, লিঙ্গ ও আঞ্চলিক বৈষম্য এবং জনসম্পত্তি নষ্ট করার মতো বিষয়গুলিকে গণতন্ত্রের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পড়ুয়াদের এখনই দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ‘Democracy and You’ নামে নতুন একটি বিভাগও যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষামহলের মতে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫১ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মকে সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে ধারণা দিতেই NCERT-র এই তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।