তারাতলা বিপর্যয়: মৃত ১১, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে শ্রমিক! প্রবল বৃষ্টিতে ব্যাহত উদ্ধারকাজ

কলকাতা: তারাতলার ভয়াবহ গুদাম বিপর্যয়ে বেড়েই চলেছে মৃত্যুমিছিল। এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে স্বজন হারানোর কান্না, অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের জেরে চরম ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।
সাড়ে ১৮ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার!
বুধবার রাতভর উদ্ধারকাজ চালানোর পর, বৃহস্পতিবার সকালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। প্রায় সাড়ে ১৮ ঘণ্টা একটি লোহার বিমের নীচে আটকে ছিলেন তিনি। সৌভাগ্যবশত তাঁর আঘাত তেমন গুরুতর নয়। উদ্ধারের পরই তাঁকে দ্রুত এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে ১৯ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং মোট ১১ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও থমকে থাকা উদ্ধারকাজ:
ভারতীয় সেনা ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) সদস্যেরা সকাল থেকেই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বেলা বাড়তেই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত।
- যন্ত্রপাতির ব্যবহার বন্ধ: ভাঙা ছাদের অংশ তোলার জন্য তিনটি হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু ঘনঘন বজ্রপাতের কারণে সুরক্ষার স্বার্থে ক্রেনগুলি নামিয়ে নিতে বাধ্য হন উদ্ধারকারীরা।
- গরমের চোখরাঙানি: সকালে তীব্র দাবদাহের কারণে উদ্ধারকাজে মন্থরতা দেখা দিয়েছিল। হাঁপিয়ে উঠছিলেন কর্মীরা, যার ফলে বারবার উদ্ধারকারী দল পরিবর্তন করতে হচ্ছিল।
- উদ্বেগ: গ্যাস কাটার ও শাবল দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চললেও বৃষ্টির কারণে তা থমকে যায়। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আর কোনও সাড়া না পাওয়ায় আটকে থাকা শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়ছে।
মন্ত্রীর পরিদর্শন ও অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প:
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। ধ্বংসস্তূপের ঠিক সামনেই একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। যাঁদের উদ্ধার করা হচ্ছে, তাঁদের সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সরাসরি অ্যাম্বুল্যান্সে করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বৃষ্টি থামলেই ফের পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।