প্রোটিয়াদের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে কোরিয়ার স্বপ্নভঙ্গ, মিডিয়ার আজব প্রশ্নের মুখে কোচ!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এশীয় মহাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ফলে নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে এনেছে ‘তাইগেউক ওয়ারিয়র্সরা’। সরাসরি নকআউটে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবলমহলে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে কোরিয়ান কোচ হং মিয়ং-বোকে সাংবাদিকদের করা তীব্র কটাক্ষ ও কড়া প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
সাংবাদিকদের ক্ষোভ এবং সনের রণকৌশল
দক্ষিণ কোরিয়ার এমন বিপর্যয়কর পারফরম্যান্সে কোরীয় মিডিয়া রীতিমতো ক্ষুব্ধ। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক কোচকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন করেন, ম্যাচের আগে ফুটবলারদের কারও বদহজম বা খাবারে বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না, তা না হলে এমন পারফরম্যান্স আসাম্ভব। কোচ হং মিয়ং-বো অবশ্য এমন কোনো অজুহাত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে এটি তাদের চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বাজে ম্যাচ ছিল। দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় সন হিউং-মিনকে প্রথমার্ধে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও বড় প্রশ্ন ওঠে। প্রতিপক্ষ ক্লান্ত হলে দ্বিতীয়ার্ধে সনের গতিকে কাজে লাগানোর যে পরিকল্পনা কোচ করেছিলেন, তা মাঠে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি।
মাঝমাঠের বিপর্যয় ও ভবিষ্যতের কঠিন সমীকরণ
কোচের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দলের এই পরাজয়ের মূল কারণ ছিল মাঝমাঠের চরম ব্যর্থতা। পূর্বপ্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও মাঠে বারবার সহজ বল হারানোর কারণে খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে এবং দল পুরোপুরি ছন্দচ্যুত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা কোরিয়ার এই দুর্বল মাঝমাঠের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নেয়। এই হারের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার টুর্নামেন্টে টিকে থাকার পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরাসরি নকআউট পর্বের টিকিট হাতছাড়া হওয়া এই দলটির ভাগ্য এখন ঝুলে আছে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দলগুলোর তালিকায় নাম ওঠার ওপর। তবে মাত্র ৩ পয়েন্ট এবং নেগেটিভ গোলপার্থক্য থাকার কারণে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সমীকরণটি তাদের জন্য পাহাড়সম কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।