আবাসন বাজারে পিছিয়ে কলকাতা, ফ্ল্যাট বিক্রিতে দেশের শীর্ষে বেঙ্গালুরু!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও ভারতের রিয়েল এস্টেট বাজার ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। তবে দেশের সার্বিক আবাসন বিক্রিতে জোয়ার এলেও, তিলোত্তমা কলকাতা থেকে ক্রমশ মুখ ফেরাচ্ছেন ক্রেতারা। রিয়েল এস্টেট ডেটা অ্যানালিটিক্স সংস্থা প্রপইকুইটি-র (PropEquity) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) দেশের শীর্ষ ৯টি শহরে বাড়ি বিক্রি এক ধাক্কায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ১,১২,৪৫৮ ইউনিটে পৌঁছেছে। নতুন প্রকল্পের সরবরাহও বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। কিন্তু এই সার্বিক বৃদ্ধির চিত্রেও ব্যতিক্রম কলকাতা ও দিল্লি-এনসিআর।
দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের দাপট
আবাসন বিক্রির নিরিখে এই মুহূর্তে দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দক্ষিণ ভারতের শহরগুলির। এর মধ্যে ক্রেতাদের সবচেয়ে পছন্দের শহর হয়ে উঠেছে বেঙ্গালুরু, যেখানে ফ্ল্যাট বা বাড়ি বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। পিছিয়ে নেই হায়দরাবাদ এবং চেন্নাইও, এই দুই শহরে বাড়ি বিক্রি বেড়েছে যথাক্রমে ২২ এবং ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে, পশ্চিম ভারতেও বাজারের চিত্র বেশ ইতিবাচক। নবি মুম্বইয়ে বিক্রি ৬১ শতাংশ এবং মূল মুম্বইয়ে ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুনে ও থানেতেও বিক্রির হার বেশ ঊর্ধ্বমুখী।
কলকাতায় পতন ও এর সম্ভাব্য প্রভাব
দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলি যখন রিয়েল এস্টেটে লাভের মুখ দেখছে, তখন কলকাতায় ফ্ল্যাট বিক্রি বছরে ২৩ শতাংশ কমে ৩,৪১৪ ইউনিটে নেমে এসেছে। দিল্লি-এনসিআরেও বিক্রি কমেছে ১৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি শক্তিশালী ভিত্তির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন দেশের রিয়েল এস্টেটেই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছেন। আগে যাঁরা মধ্যপ্রাচ্যে বিনিয়োগ করতেন, তাঁরাও এখন ভারতের বাজারকে বেছে নিচ্ছেন। তবে কলকাতায় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অন্যান্য শহরের তুলনায় ধীর হওয়ার কারণেই মূলত ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা মুখ ফেরাচ্ছেন। এই পতন অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে শহরের আবাসন শিল্পে বিনিয়োগ এবং এর সঙ্গে যুক্ত কর্মসংস্থানেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।