তারাতলার ধ্বংসস্তূপে তিন কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু! কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সরকারের
পেটের দায়ে বই-খাতা ছেড়ে নির্মাণস্থলে কাজে নেমেছিল তারা। কিন্তু সেই বাঁচার লড়াই চিরতরে শেষ হলো তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ধ্বংসস্তূপের নিচে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে মৃতদের মধ্যে অন্তত তিনজন নাবালক শ্রমিক ছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনা রাজ্যে শিশুশ্রমের করুণ বাস্তবতাকে ফের একবার সামনে এনেছে।
বেআইনি নিয়োগ ও পুলিশি তদন্ত
উদ্ধারকাজের পর মৃত শ্রমিকদের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা রাহুল চৌধুরীর বয়স এখনও ১৮ বছর পেরোয়নি। পরবর্তীতে জানা যায়, মৃত সাহিল সর্দার ও ঘি কুমার নামের আরও দুই শ্রমিকের বয়সও মাত্র ১৭ বছর। আইন অনুযায়ী, এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজে নাবালকদের নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি। কার নির্দেশে এবং কীভাবে এই তিন কিশোরকে কাজে লাগানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।
শ্রমমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
নাবালক শ্রমিক মৃত্যুর এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ১৮ বছরের কম বয়সিদের দিয়ে কাজ করানো দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে। চরম দারিদ্র্যই যে বহু পরিবারকে এই পথে ঠেলে দিচ্ছে, সে কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। শিশুশ্রম রুখতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, দরিদ্র পরিবারগুলিকে সরকারি প্রকল্পের আওতায় এনে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মন্ত্রী।
এই বিপর্যয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, অসংগঠিত নির্মাণক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও নজরদারির কতটা অভাব রয়েছে। নিহতদের মধ্যে মাত্র একজন শ্রমদফতরে নথিভুক্ত ছিলেন, যা সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা। মনে করা হচ্ছে, এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক নথিভুক্তকরণ এবং শিশুশ্রম নির্মূল করতে প্রশাসন আরও কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।