জলঢাকার প্রবল স্রোতে তলিয়ে মৃত্যু নাবালকের, ঝাঁপ দিয়ে তিন বন্ধুকে বাঁচালেন ‘হিরো’ ভলেন

জলঢাকার প্রবল স্রোতে তলিয়ে মৃত্যু নাবালকের, ঝাঁপ দিয়ে তিন বন্ধুকে বাঁচালেন ‘হিরো’ ভলেন

ময়নাগুড়ি: চোখের সামনে চার কিশোরকে তলিয়ে যেতে দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপ। তিনজনকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেও, শেষ পর্যন্ত এক কিশোরকে বাঁচাতে না পারার আক্ষেপ তাড়া করে বেড়াচ্ছে ৫৫ বছর বয়সী ভলেন রায়কে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাগুড়ির জলঢাকা নদীর এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া।

কী ঘটেছিল?

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাগুড়ির রামসাই বারোহাতি এলাকার চার বন্ধু— ঋক দেবনাথ (১২), ঋজু দেবনাথ, জয়দীপ সাহা ও আকাশ সাহা— কাশিয়া বাড়ি সংলগ্ন জলঢাকা নদীতে স্নান করতে নেমেছিল। নদীতে হঠাৎই স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে শুরু করে চারজন।

কিছু দূরেই মাছ ধরছিলেন ভলেন রায়। কিশোরদের চিৎকার শুনেই তিনি একটি ভাঙা থার্মোকলের টুকরো নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন নদীতে। নিজের অসীম সাহসিকতায় একে একে তিন কিশোরকে ডাঙায় তুলে আনতে পারলেও, প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায় ঋক।

দীর্ঘ তল্লাশির পর উদ্ধার দেহ

খবর চাউর হতেই স্থানীয়দের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়। ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স উদ্ধারকাজে নামলেও দুর্গম পথ ও কাদার কারণে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়। পরে ডুবুরি নামিয়ে দীর্ঘ তল্লাশির পর বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ঋকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

‘বাঁচাতে পারলাম না একজনকে’

উদ্ধারকারী ভলেন রায়ের কথায়, “আমি মাছ ধরার সময় ওদের জলে নামতে দেখেছিলাম। গভীর জলে না যেতে বারণ করেছিলাম। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। তিনজনকে বাঁচাতে পেরেছি, কিন্তু একজনকে আর ফিরিয়ে আনতে পারলাম না।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বন্ধুরা ক্রিকেট খেলার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। বাড়ির অজান্তেই তারা অত দূরে নদীতে স্নান করতে গিয়েছিল। ময়নাগুড়ির বিডিও সৌমেন দাস এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে ভলেন রায়ের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *