৪,০০০ বছর আগেই পাসপোর্টের ব্যবহার! রহস্যময় সিলই ছিল প্রাচীন ভারতের ‘পরিচয়পত্র’?

প্রত্নতত্ত্ব ডেস্ক: পাসপোর্ট মানেই এখন আধুনিক যুগের নীল বা গাঢ় রঙের বই। কিন্তু ইতিহাস বলছে, মানুষের যাতায়াত ও পরিচয় যাচাইয়ের এই পদ্ধতির শিকড় লুকিয়ে আছে প্রায় ৪,০০০ বছর আগের সিন্ধু বা হরপ্পা সভ্যতায়। সম্প্রতি গুজরাটের ধোলাভিরা সংলগ্ন এলাকা থেকে আবিষ্কৃত কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আধুনিক ইতিহাসবিদদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
পোড়ামাটির সিলই কি তবে প্রাচীন পাসপোর্ট?
গবেষকদের মতে, হরপ্পা সভ্যতার সময় দূরপাল্লার বাণিজ্যের প্রয়োজনে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াতকারী মানুষের পরিচয় নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের পোড়ামাটির সিল বা ‘টেরাকোটা পেনডেন্ট’ ব্যবহৃত হতো। এই সিলগুলোর একপাশে থাকত রহস্যময় ইউনিকর্নের মতো কোনো জন্তুর ছাপ এবং অন্যপাশে সিন্ধু লিপি।
জাজল প্রত্নতাত্ত্বিক অধ্যাপক তোশিকি ওসাদার মতে, গুজরাটের কানমে আবিষ্কৃত তিনটি গোলাকার সিল আসলে ওই সময়ের ভ্রমণকারীদের ‘পরিচয়পত্র’ বা ‘পাসপোর্ট সিল’ হতে পারে। মেসোপটেমিয়া ও মিশরের মতো সুদূর অঞ্চল পর্যন্ত বাণিজ্যের সুবিধার জন্য পরিচয় যাচাইয়ের এমন কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সেই সময়েই অনুভূত হয়েছিল।
ইতিহাসের পাতায় বিবর্তন:
শুধু হরপ্পা সভ্যতা নয়, সময়ের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশে পরিচয়পত্রের রূপ বদলালেও মূল উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন:
- মৌর্য যুগ: এই সময় বিদেশিদের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হতো।
- মুঘল আমল: বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের ‘সনদ’ বা অনুমতিপত্র দেওয়ার প্রচলন ছিল।
- ব্রিটিশ যুগ: কিছু অঞ্চলে লিখিত কাগজের বদলে মাটির সিল ব্যবহার করে যাতায়াতের অনুমতি নেওয়ার রীতি চালু ছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, আধুনিক পাসপোর্ট যে ধারণা থেকে উদ্ভূত, তার বীজ বপন হয়েছিল ৪,০০০ বছর আগেই। হরপ্পার এই রহস্যময় সিলগুলো যদি সত্যিই ভ্রমণের অনুমতি বা পরিচয় বহন করে থাকে, তবে স্বীকার করতেই হয়—ভারতই পাসপোর্টের ইতিহাসের সূতিকাগার।