নাগরিক দুর্ভোগ মেটাতে এবার এক ফোনেই মিলবেন পুরমন্ত্রী, জুলাইয়েই শুরু হচ্ছে ‘মুখোমুখি’!

রাজ্যের পৌর এলাকাগুলির নাগরিকদের পরিষেবা সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার দ্রুত ও সরাসরি সমাধানের লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিতে চলেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। আগামী ৪ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘মুখোমুখি’ নামের একটি বিশেষ কর্মসূচি, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি ফোনের মাধ্যমে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রথম দিন কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (কেএমসি) এলাকা দিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা হবে। আসানসোলে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী নিজে সংবাদমাধ্যমের কাছে এই নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন।
সরাসরি সমাধানের অভিনব কর্মপদ্ধতি
এই কর্মসূচির অধীনে প্রতি শনিবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ফোন লাইন খোলা থাকবে। এক থেকে দেড় ঘণ্টার এই লাইভ সেশনে নাগরিকরা পানীয় জল, রাস্তা মেরামত বা অন্য যেকোনো পুর পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার কথা সরাসরি মন্ত্রীকে জানাতে পারবেন। অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়াটিকে গতিশীল করতে মন্ত্রী নিজে কলকাতার দপ্তরে উপস্থিত থাকবেন এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনের শীর্ষ আধিকারিক ও সামগ্রিক দপ্তরের প্রতিনিধিরা কনফারেন্স রুমে বসবেন। দূরত্বের কারণে শুধুমাত্র শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের আধিকারিকরা অনলাইনে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন, বাকি সমস্ত কর্পোরেশনের আধিকারিকরা সশরীরে হাজির থাকবেন। কলকাতার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আসানসোল, শিলিগুড়ি, হাওড়া, বিধাননগর এবং চন্দননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জন্যও সপ্তাহে আলাদা আলাদা দিন ও সময় নির্ধারণ করা হবে, যা খুব শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনসাধারণকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
উদ্যোগের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাধারণত স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে নাগরিক পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রশাসন ও জনসাধারণের মধ্যে এই দূরত্ব কমিয়ে এনে কাজের গতি বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে নাগরিক পরিষেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফোন আসা মাত্রই সমস্যার কথা লিখে নিয়ে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে অভিযোগকারীর মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে ট্র্যাকিং আইডি দেওয়া হবে। যতক্ষণ না নাগরিকের সমস্যাটি সম্পূর্ণভাবে মিটছে এবং তিনি চূড়ান্ত বার্তা পাচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সমাধানের কাজ জারি থাকবে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সরাসরি শীর্ষ স্তরের নজরদারির কারণে নাগরিকদের হয়রানি ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।