তারাতলা বিপর্যয়ের পর কড়া প্রশাসন, রিপোর্ট ঠিক থাকলে তবেই শুরু হবে নির্মাণকাজ!

তারাতলা বিপর্যয় ও কড়া পদক্ষেপ
সম্প্রতি তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ে ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে নির্মাণকাজে গাফিলতি ও অনিয়মকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে। এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত বহুতল ও বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তৈরি হচ্ছে বিশেষ টিম ও কড়া নজরদারি
এই নিষেধাজ্ঞার এক মাস সময়কালের মধ্যে শহরের পাঁচতলার বেশি উঁচু নির্মীয়মাণ বহুতলগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করবে বিশেষজ্ঞদের বিশেষ দল। কলকাতা পুরসভা, কেএমডিএ, পুলিশ, পূর্ত, দমকল ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রতিটি বরোতে এক থেকে তিনটি পরিদর্শক টিম গঠন করা হচ্ছে। পরিদর্শনের সুবিধার জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ বা এসওপি তৈরি করা হয়েছে। এই প্রশ্নপত্রের ধাঁচে তৈরি এসওপি-র ওপর ভিত্তি করে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান খতিয়ে দেখা হবে। পরিদর্শক দলের রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে তবেই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি মিলবে। চলতি সপ্তাহের শেষেই এই পরিদর্শনের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতার পাশাপাশি রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, বিষ্ণুপুর এবং বারুইপুর পুরসভা এলাকাতেও আগামী চার সপ্তাহ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওই সমস্ত এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অডিট ও সমীক্ষার কাজ শুরু হবে। পিছিয়ে নেই হাওড়া পুরসভাও। আগামী সোমবার একটি বিশেষ বৈঠকের পর সেখানেও শুরু হতে চলেছে নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির কড়া সমীক্ষা। এই প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে আগামী দিনে শহর ও শহরতলির আবাসন শিল্পে সুরক্ষা ও নিয়মশৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে এবং বেআইনি নির্মাণের প্রবণতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।