বাংলায় চালু হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি! সন্তানসংখ্যা নিয়ে বড়সড় বিভ্রান্তি দূর করলেন শমীক

গুজরাট, উত্তরাখণ্ড ও আসামের পর এবার বাংলাতেও চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি। আগামী সোমবার বিধানসভায় এই বিল পেশ করতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই আবহে রাজ্যে ইউসিসির প্রয়োজনীয়তা ও লক্ষ্য তুলে ধরে দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সমাজমাধ্যমে একটি বার্তার মাধ্যমে তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, আইনের দৃষ্টিতে দেশের সকল নাগরিক সমান এবং আইনি বৈষম্য দূর করতেই এই বিধি কার্যকর করা হচ্ছে।
আওতার বাইরে আদিবাসীরা এবং জল্পনার অবসান
ইউসিসি নিয়ে তৈরি হওয়া একাধিক বিভ্রান্তির মধ্যে সবচেয়ে বড় জল্পনাটি ছিল সন্তানসংখ্যা নির্ধারণ সংক্রান্ত। শমীক ভট্টাচার্য এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই আইনের মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি কত সন্তানের জন্ম দেবেন তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে না, সন্তানসংখ্যা নির্ধারণ করা ইউসিসির উদ্দেশ্য নয়। পাশাপাশি, তফসিলি জনজাতি তথা আদিবাসীদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৬ (২৫) এবং অনুচ্ছেদ ৩৪২ অনুযায়ী তাঁদের প্রথা, রীতি, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও বিশেষ অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।
বহুবিবাহ রোধ ও সম্ভাব্য আইনি প্রভাব
ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ ও লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি একক আইনি ব্যবস্থা তৈরি করাই হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল লক্ষ্য। এর একটি বড় প্রভাব পড়বে ব্যক্তিগত আইনের ওপর। বর্তমান ব্যক্তিগত আইনে বহুবিবাহের যে সুযোগ রয়েছে, ইউসিসি চালু হলে তা সম্পূর্ণরূপে রোধ করা যাবে বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ রাজ্যের নাগরিকদের মধ্যে আইনি বৈষম্য দূর করে সাংবিধানিক সমতা, ন্যায়বিচার এবং দেশের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে।