পুরসভার ক্যান্টিন কর্মীদের ফাইল আটকে কাটমানি চাইতেন কালী!

পুরসভার ক্যান্টিন কর্মীদের ফাইল আটকে কাটমানি চাইতেন কালী!

তারাতলা কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কালীর নিত্যনতুন কীর্তি প্রকাশ্যে আসছে। এবার খোদ পুরসভার ক্যান্টিন কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির অনুমোদিত ফাইল আটকে রেখে কাটমানি বা তোলাবাজির চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে।

বেতন বৃদ্ধির ফাইলে তোলাবাজির ছায়া

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি বিজড়িত কলকাতা পুরসভার ক্যান্টিনে কর্মরত ২৭ জন কর্মীকে প্রাক্তন মেয়র নিজে বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জানা যায়, গত পাঁচ বছরে অন্তত ছ’বার কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ফাইল অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় এবং দু’বার তা অনুমোদিতও হয়। কিন্তু অভিযোগ, অনুমোদনের পরেও সেই ফাইল নিজের ঘরে আটকে রাখতেন কালী। কর্মীদের তিনি সরাসরি প্রশ্ন করতেন, তাঁদের মাইনে বাড়লে তাঁর নিজের কী লাভ হবে। ফাইলের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে গেলে কর্মীদের চরম অপমান করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে এই আধিকারিকের বিরুদ্ধে। পুরসভায় নিজের পদের অপব্যবহার করে তিনি এই অরাজকতা চালাতেন বলে দাবি কর্মীদের।

দুর্নীতির জাল ও সম্ভাব্য প্রভাব

সাম্প্রতিক তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ের তদন্তে নেমে সিট ইতিমধ্যেই কালীচরণকে গ্রেপ্তার করেছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কালীর অগাধ প্রভাব ও বেআইনি কাজে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছিলেন, শহরের সমস্ত বিল্ডিংয়ের অনুমোদন তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই চলত। পুরসভার অন্দরে কালীর এই ক্ষমতাদর্পের নয়া তথ্য প্রকাশ্যে আসায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোতে দুর্নীতির জাল কতটা গভীরে বিস্তার করেছিল। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে একদিকে যেমন দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ কর্মীরা তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অন্যদিকে পুরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *