ডায়াবেটিস সারাতে তামিলনাড়ুর শিবমন্দিরে ভিড়, নেপথ্যে পিঁপড়ের রহস্য!

সুখ ও সুস্বাস্থ্যের আশায় মানুষ যুগে যুগে নানা তীর্থে পাড়ি দেন। তবে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর একটি বিশেষ মন্দিরে ভক্তদের ভিড় জমানোর কারণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোইলভেনি গ্রামে অবস্থিত এই মন্দিরে মানুষ ছুটে যান কেবল একটি জটিল রোগ থেকে মুক্তি পেতে, আর তা হলো ডায়াবেটিস বা মধুমেহ।
গুড় ও পিঁপড়ের অদ্ভুত সমীকরণ
প্রাচীন এই মন্দিরটির আসল নাম কারুম্বেশ্বরর মন্দির, যা তামিল সন্তদের ভক্তিগীতিতে উল্লেখিত ২৭৫টি পবিত্র শিবমন্দিরের অন্যতম। তবে বর্তমানে মানুষের মুখে মুখে এটি ‘ডায়াবেটিস মন্দির’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। এই মন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে লক্ষাধিক পিঁপড়ের বসবাস। স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মধুমেহ রোগীরা রোগমুক্তির আশায় ঈশ্বরের উদ্দেশে গুড় নিবেদন করেন। নিবেদিত সেই গুড় যদি মন্দিরের পিঁপড়েরা খেয়ে নেয় বা বহন করে নিয়ে যায়, তবে তাকে অত্যন্ত শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, পিঁপড়েরা গুড় মুখে করে নিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো শরীর থেকে অতিরিক্ত শর্করা বা রোগের প্রভাব প্রতীকীভাবে দূর হয়ে যাওয়া।
বিজ্ঞান বনাম লোকবিশ্বাস
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধরনের লোকবিশ্বাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি একটি রোগ নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওষুধ এবং চিকিৎসকের পরামর্শই একমাত্র পথ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ধর্মীয় আচার মূলত রোগীদের মানসিক জোর বাড়াতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করার আত্মবিশ্বাস জোগায়। তা সত্ত্বেও, বহু মানুষ এই মন্দির দর্শনের পর রাতারাতি রোগমুক্তির দাবি করেন। আর সেই অগাধ বিশ্বাসের ওপর ভর করেই বৈজ্ঞানিক যুক্তিকে ছাপিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত নিরাময়ের আশায় এই প্রাচীন মন্দির চত্বরে ভিড় জমান।