বাড়ি ফিরতেই তৃণমূল নেতাকে ঘিরে ধরে জুতোপেটা করলেন মহিলারা, গোঘাটে তীব্র উত্তেজনা!

হুগলির গোঘাটে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে এক নজিরবিহীন জনরোষের ঘটনা ঘটেছে। এলাকা ছেড়ে পালিয়েও শেষরক্ষা হলো না তৃণমূল নেতা গৌতম পাত্রের। দীর্ঘদিন পর শনিবার তিনি এলাকায় ফিরতেই স্থানীয় মহিলারা তাঁর ওপর চড়াও হন। মারের হাত থেকে বাঁচতে ওই তৃণমূল নেতা স্থানীয় একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নিলেও উত্তেজিত জনতা তাঁকে সেখান থেকে বের করে জুতোপেটা করে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অত্যাচারের অভিযোগ ও গণবিক্ষোভের কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকেই গোঘাটের এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। রাজনৈতিক হিংসা উসকে দেওয়া, নারীদের ওপর নির্যাতন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর মতো ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত ছিল। এমনকি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তিনি এলাকায় হুমকি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। নির্বাচনে শাসক শিবিরের ভরাডুবির পর গণপিটুনির ভয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন পর তাঁর আকস্মিক প্রত্যাবর্তনই এই স্বতঃস্ফূর্ত জনবিস্ফোরণের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সদস্য শিশির রায় জানান, এটি তৃণমূলের দুর্নীতি ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তবে তাঁরা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিপক্ষে এবং প্রশাসনের কাছে এই সমস্ত অভিযুক্ত নেতাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের পক্ষ থেকে বারবার আইন নিজের হাতে না নেওয়ার বার্তা দেওয়া হলেও নেতাদের ওপর রাজ্যজুড়ে এ ধরনের ধারাবাহিক জনরোষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলার জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা এবং সময়মতো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।