তৃণমূলের টালমাটাল অবস্থায় বিকল্পের সন্ধানে সিপিএম! আগামী অগস্টে বড় সিদ্ধান্তের পথে আলিমুদ্দিন

কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরের ভাঙন ও ডামাডোলের আবহে রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েছে সিপিএম। শাসকদলের টালমাটাল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কীভাবে জনমানসে বিকল্প মুখ হয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে নতুন করে রণকৌশল তৈরি করছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
আগস্টেই আসছে আন্দোলনের নতুন নীল-নকশা
গত ২৩ ও ২৪ জুন আলিমুদ্দিনে আয়োজিত রাজ্য কমিটির বৈঠকের পর, দলের আগামী রূপরেখা চূড়ান্ত করতে আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট নদিয়ার কল্যাণীতে একটি বিশেষ বর্ধিত অধিবেশন ডেকেছে সিপিএম। এই অধিবেশনে পলিটব্যুরোর শীর্ষ নেতৃত্ব, এম এ বেবি-সহ দলের কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
বামেদের নয়া রণকৌশল:
দলীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা ভোটে প্রত্যাশিত সাফল্য না মেলায় সাংগঠনিক ত্রুটি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে সিপিএম। তবে ডোমকলে বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানার জয় এবং ফলতা উপনির্বাচনে বামেদের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা দলের কর্মীদের অক্সিজেন জুগিয়েছে। সিপিএমের রণকৌশলে আপাতত যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে:
- ধৈর্য ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ: রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এখনই অতি-আগ্রাসী আন্দোলনে না গিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকার ও তৃণমূলকে কিছুটা সময় দেওয়া হবে।
- সংগঠন মজবুত করা: রাজ্য কমিটিতে নতুন মুখ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রবীণ কৃষক নেতা মেঘনাথ ভূঁইয়া, যুবনেতা ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তী এবং মহিলা নেত্রী মোনালিসা সিনহাকে। বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা।
- জনমুখী আন্দোলন: আগামী ১০ আগস্ট শ্রমিক, কৃষক ও বস্তিবাসী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে সিপিএম। মূল দাবি— বিতর্কিত শ্রম কোড বাতিল এবং পুরসভাগুলোতে থমকে থাকা নাগরিক পরিষেবা দ্রুত সচল করা।
- সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী বার্তা: এসআইআর (SIR)-এর কাজ দ্রুত শেষ করা এবং রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামার ডাক দিয়েছে বাম নেতৃত্ব।
তৃণমূলের ভোট ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়া গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষকে পুনরায় দলে ফেরানো এবং সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে হারানো আধিপত্য ফিরে পাওয়াই এখন সিপিএমের মূল চ্যালেঞ্জ। কল্যাণীর অধিবেশনে এই লক্ষ্যেই চূড়ান্ত আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।