পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে খুন, বিকেলে মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী!

হুগলি: পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের পর নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন স্বামী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির রিষড়ার নতুন গ্রাম এলাকায়। এই জোড়া মৃত্যুতে স্তম্ভিত এলাকাবাসী।
ঘটনার সূত্রপাত:
রিষড়া তিন নম্বর গভর্মেন্ট কলোনি সংলগ্ন এলাকায় ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকতেন ৩২ বছর বয়সী মনিকা সরকার। তাঁর স্বামী দীপঙ্কর সরকার দিল্লিতে কর্মরত থাকলেও কয়েকদিন আগেই বাড়ি ফিরেছিলেন। শুক্রবার রাতে প্রতিবেশীরা মনিকার আর্ত চিৎকার শুনতে পান। শনিবার সকালে সারা শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে মনিকার গলাকাটা নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, পাশে শুয়েছিল তাঁদের শিশুকন্যা।
পুলিশি তদন্ত ও চাঞ্চল্য:
মনিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে—এই সন্দেহে দীপঙ্করই তাঁকে শ্বাসরোধ করে এবং পরে গলা কেটে খুন করেছেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন দীপঙ্কর। পুলিশ বিএনএস-এর ৮৫/১০৩(১) ধারায় খুনের মামলা রুজু করে তল্লাশি শুরু করে।
কিন্তু তদন্তের মাঝপথেই আসে নতুন মোড়। পুলিশ জানতে পারে, রিষড়ার ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে লাইনে ঝাঁপ দিয়েছেন অভিযুক্ত দীপঙ্কর। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরকীয়ার সন্দেহে এক রাতের মধ্যেই একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং অনাথ হয়ে যাওয়া শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।