নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত ক্যান্টিনেও ‘কালী’র থাবা! সামান্য বেতন বৃদ্ধিতেও তোলাবাজির অভিযোগ

নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত ক্যান্টিনেও ‘কালী’র থাবা! সামান্য বেতন বৃদ্ধিতেও তোলাবাজির অভিযোগ

কলকাতা: তারাতলা কাণ্ডের পর পুলিশের জালে বন্দি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নিত্যনতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। এবার কলকাতা পুরসভার ঐতিহ্যবাহী ক্যান্টিনের কর্মীদের বেতন নিয়ে এক ভয়ঙ্কর দুর্নীতির চিত্র সামনে এল। অভিযোগ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত এই ক্যান্টিনের কর্মীদের সামান্য ৫০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির ফাইলও আটকে দিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিমের এই ‘ঘনিষ্ঠ’ সহযোগী।

নেতাজির ক্যান্টিনে দুর্নীতির কালো ছায়া

১৯৩০-৩১ সালে তৎকালীন মহানাগরিক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হাত ধরে কলকাতা পুরসভার এই ঐতিহাসিক ক্যান্টিনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ক্যান্টিনের কর্মীদের ভাগ্য এখন কালীচরণের দাপটে অনিশ্চিত। অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে অন্তত ছ’বার কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবের ফাইল তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে পাঠানো হয়েছিল। মেয়র দু’বার তাতে স্বাক্ষরও করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই ফাইল আটকে রাখতেন কালীচরণ।

‘আমার পকেটে কী ঢুকবে?’

সূত্রের খবর, ক্যান্টিনের মাত্র ২৭ জন কর্মীর মাথাপিছু ৫০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন কর্মীরা। কিন্তু অভিযোগ, কালীচরণ সেই ফাইলে স্বাক্ষর তো দূরের কথা, উল্টে ঔদ্ধত্য দেখিয়ে প্রশ্ন তুলতেন, “কর্মীদের বেতন বাড়লে আমার পকেটে কী ঢুকবে?”

মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় কালী

ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “কালীকে তুলে নিলেই সব আসল সত্যি বেরিয়ে আসবে।” মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পর থেকেই কালীচরণের একের পর এক কুকীর্তি প্রকাশ্যে আসছে। সূত্রের খবর, নেতাজির জন্মবার্ষিকীর দিন প্রতি বছরই ফিরহাদ হাকিম ক্যান্টিনে গিয়ে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দিতেন। কিন্তু ওপরতলার দাপুটে কালীচরণের কারসাজিতে সেই আশ্বাস কেবল মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই শোষণ ও দুর্নীতিতে এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন ক্যান্টিনের কর্মীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *