রাম মন্দিরের দান চুরিতে তোলপাড়! যোগী সরকারকে কড়া নিশানা প্রিয়ঙ্কার

অযোধ্যা: রাম মন্দিরের ভক্তদের দেওয়া পবিত্র দানের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় উত্তাল দেশ। এই জালিয়াতিকে ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। ভক্তদের আস্থার অপব্যবহার নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের কাছে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি তুলেছেন তিনি।
‘গরিবের আবেগের টাকা চুরি’: প্রিয়ঙ্কা
শনিবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র ওয়েনাড়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সারা দেশের মানুষ অসীম ভক্তি ও বিশ্বাস নিয়ে রাম মন্দিরের জন্য দান করেছিলেন। আর এখন সেই দানের টাকাই চুরি হয়েছে! এটা শুধু লজ্জাজনক নয়, সাধারণ মানুষের আবেগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
কংগ্রেস নেত্রীর প্রশ্ন, “এই টাকা শুধু বড় কর্পোরেটদের দেওয়া ফান্ড নয়; সাধারণ মানুষ, গৃহবধূ এবং গরিব মানুষের জমানো সঞ্চয়। আপনারা যদি মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে থাকেন, তবে সেই টাকা সুরক্ষিত রাখার দায়ভারও আপনাদেরই ছিল। দায়িত্ব কার ছিল তা প্রকাশ্যে আসুক।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও গ্রেফতারি
গত ৭ জুন অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদানের টাকা নয়ছয়ের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। গত ২৫ জুন SIT-এর প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে একটি FIR দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর:
- ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- ধৃতদের ২৯ জুন পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
‘কাউকে রেয়াত নয়’: যোগী প্রশাসন
এই বিতর্কে চাপে পড়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। SIT-এর রিপোর্ট অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে যোগী প্রশাসন।