বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক ও টাকা হাতানোর অভিযোগ, কাঠগড়ায় বিজেপি মণ্ডল সভাপতি

হাওড়া: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস এবং ব্যবসার নাম করে লক্ষাধিক টাকা ও গয়না হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল দক্ষিণ হাওড়া ২ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি আদিত্য সামন্তর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই মহিলা নিজেও একজন বিজেপি কর্মী, যা নিয়ে হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগের বয়ান:
ভুক্তভোগী ওই মহিলার দাবি, আদিত্যর সঙ্গে তাঁর পরিচয় অনেক আগে থেকেই। সেই সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মহিলার অভিযোগ, “আদিত্য আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সে আমাকে বাড়ি তৈরি করে দেবে এবং বিয়ে করে একসঙ্গে থাকবে। আমি তাকে বিশ্বাস করে ব্যবসার প্রয়োজনে দুই লক্ষ টাকা ও সোনার গয়না দিয়েছিলাম। দীর্ঘ সময় ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করেছে।”
মহিলার আরও অভিযোগ, এখন বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আদিত্য তাঁকে এড়িয়ে চলছে। বিয়ের প্রসঙ্গ তুললেই সে হুমকি দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, টাকা ও গয়না ফেরত চাইলে সে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই ঘটনায় তিনি হাওড়ার সাঁকরাইল থানায় আদিত্যর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দলের অন্দরেই ক্ষোভ:
ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দলের কর্মীদের একাংশের স্পষ্ট বার্তা, “দল অন্যায়কে কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। মণ্ডল সভাপতি যদি সত্যিই অপরাধী প্রমাণিত হন, তবে তাঁর কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আদিত্য সামন্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাঁকরাইল থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ আধিকারিকরা জানান, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মেয়ের সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বলে খবর পেয়েছেন ভুক্তভোগী মহিলা। এখন পুলিশি তদন্তে আদিত্যর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর সকলের।