জোরাল ভূমিকম্পে কাঁপল দিল্লি ও জম্মু-কাশ্মীর, উত্তর ভারতজুড়ে তীব্র আতঙ্ক!

ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীরসহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। শনিবার সন্ধ্যার এই জোরাল কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরবাড়ি ও বহুতল অফিস ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, চীন, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান ও তুর্কমেনিস্তানে এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের উৎস ও তীব্রতা
জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (এনসিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের কালাফগান থেকে প্রায় ৮১ কিলোমিটার দূরে, হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.২। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হওয়ায় এর প্রভাব সুদূর উত্তর ভারত এবং মধ্য এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে শনিবার সকালেই হিমাচল প্রদেশের চাম্বায় ৩.২ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন এবং পাকিস্তানে ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যায় আফগানিস্তানের মূল কম্পনের পর ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও কেঁপে ওঠে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভূবিজ্ঞানীদের মতে, আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। প্লেট দুটির পারস্পরিক সংঘর্ষ ও ভূগর্ভস্থ শক্তির অবমুক্তির কারণেই এই জোরাল কম্পন অনুভূত হয়েছে। একের পর এক এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বহুতল ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ঘন ঘন কম্পনের ফলে পার্বত্য এলাকাগুলোতে ধস নামার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যা যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।