‘যাঁদের কাজে এনেছিলাম তাঁরাই নেই, আর এই পেশায় ফিরব না!’ কান্নায় ভেঙে পড়লেন তারাতলার ঠিকাদার

‘যাঁদের কাজে এনেছিলাম তাঁরাই নেই, আর এই পেশায় ফিরব না!’ কান্নায় ভেঙে পড়লেন তারাতলার ঠিকাদার

কলকাতা: তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামে ভয়াবহ ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরেছেন ঠিকাদার দেবাশিস দাস। কিন্তু শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও তাঁর মনে দগদগে ক্ষতের মতো জ্বলছে গ্লানিবোধ। হাসপাতালের শয্যা ছাড়তেই দেবাশিস জানিয়ে দিলেন, শ্রমিকদের এই মর্মান্তিক পরিণতির পর তিনি আর কখনও ঢালাইয়ের ঠিকাদারি কাজে ফিরবেন না।

‘নিজেদের জীবন ফিরে পেলাম, কিন্তু ওদের কী হবে?’

শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে স্ত্রী অন্নপূর্ণার হাত ধরে বেরিয়ে আসার সময় দেবাশিস আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “যাঁদের আমি কাজে নিয়োগ করেছিলাম, তাঁদের মধ্যে দু’জন আর ফিরলেন না! সেই দুটো ছেলের প্রাণ তো আর আমি ফেরাতে পারব না। আমিই ওদের কাজের জন্য নিয়ে এসেছিলাম।” তিনি এখন প্রশাসনের কাছে একটাই আর্জি জানিয়েছেন, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যেন দ্রুত উপযুক্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।

কীভাবে ঘটেছিল সেই বিভীষিকা?

ঘটনার দিনটির কথা স্মরণ করে দেবাশিস জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁরা গুদামে পৌঁছন। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ কংক্রিটের কাজ শুরু হয়। তিনি বলেন, “হঠাৎ ভাইব্রেশনে উপর থেকে নির্মাণের অংশ ভেঙে পড়ে। আমরা তখন ভগ্নস্তূপের নিচে বন্দি। চারদিকে অন্ধকার, চিৎকার করছি, কিন্তু মোবাইল নেটওয়ার্কও ছিল না।” দীর্ঘ তিন-চার ঘণ্টা মৃত্যুর মুখ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে।

অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ

দেবাশিসের কথায়, নির্মাণের সময় কোনো রেজিস্টারে নাম সই করানো হয়নি, যা বড় ধরনের নিরাপত্তার অভাবকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। লেবার কন্ট্রাক্টর ধর্মেন্দ্র সহানির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ নেই।

‘স্বামীকে আর এই কাজে পাঠাব না’

এদিকে দেবাশিসের স্ত্রী অন্নপূর্ণা জানিয়েছেন, স্বামীর জীবনের চেয়ে বড় কিছু নয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “স্বামীকে আর কোনোদিন এই ঢালাইয়ের ঠিকাদারি কাজে যেতে দেব না।” শনিবার বাড়ি ফেরার পথে দেবাশিসের কণ্ঠে কেবলই শোনা গেল সেই আফসোস— “আমরা জীবন ফিরে পেয়েছি, কিন্তু যাঁরা ফিরলেন না, তাঁদের পরিবারগুলোর কী হবে?”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *