তারাতলা কাণ্ড: ২০ লক্ষ টাকার ‘ডিল’-এ বন্ধ হয়েছিল নজরদারি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬
June 27, 20268:35 pm

মুম্বই: তারাতলা গোডাউন ধসের ঘটনায় উদ্ধারকাজ চলাকালীন মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬-তে পৌঁছালো। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়। তবে কেবল দুর্ঘটনা নয়, SIT-এর তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র। ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কীভাবে নজরদারি এড়িয়ে অবৈধ নির্মাণকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল, তা এখন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে।
প্রধান তথ্যসমূহ:
- মৃতের সংখ্যা: শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। উদ্ধারকাজে NDRF-এর সাতটি দক্ষ টিম অত্যাধুনিক থার্মাল ইমেজিং ও লাইফ ডিটেক্টর মেশিন ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষের আশা করা হচ্ছে।
- ২০ লক্ষ টাকার ‘ডিল’: SIT-এর দাবি, প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের OSD কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দালাল আব্দুল হামিদের মধ্যে ২০ লক্ষ টাকার একটি ডিল হয়েছিল। এই টাকার বিনিময়েই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে নির্মাণে কোনও বাধা আসবে না এবং পুরসভার পক্ষ থেকে কোনও নজরদারি চালানো হবে না।
- কাগজে-কলমে ‘বৈধ’ কিন্তু বাস্তবে ‘মৃত্যুফাঁদ’: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নির্মাণস্থলে কোনো পরিদর্শন না হলেও খাতায়-কলমে ‘ইনস্পেকশন সম্পন্ন’ দেখানো হতো। অনুমোদিত নকশায় কংক্রিটের বিম ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে ব্যবহার করা হয়েছিল সস্তা লোহার বিম। এই দ্বৈত প্রতারণাই বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
- প্রভাবশালীর যোগসূত্র: শুক্রবার কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলিপুর আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, কালীচরণ অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং এই দুর্নীতির চেইন অনেক গভীরে। তাঁর সাহায্যে আরও বহু ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আদালত তাঁকে ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
- পুরসভার অবস্থান: অন্যদিকে, পুরসভার পাল্টা দাবি, বিল্ডিং কমিটি এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমোদনের পরেই প্ল্যান পাস করা হয়। তাই দায় এড়াতে পরোক্ষভাবে তারা প্ল্যান পাশের পরের পরিস্থিতির ওপর নজর দিতে চাইছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দোষীরা কেউ রেহাই পাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি এখন কোন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের দিকে আঙুল তোলে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।