পাল্টা হামলায় কাঁপছে ইরান-আমেরিকা! কুয়েত ও বাহরিনে মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল-ড্রোন হানা

পাল্টা হামলায় কাঁপছে ইরান-আমেরিকা! কুয়েত ও বাহরিনে মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল-ড্রোন হানা

তেহরান: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা আরও জোরালো হলো। ইরানকে ‘নিঃশেষ’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রবিবার ভোরে কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাল ইরান। এই ঘটনায় নতুন করে বড় মাপের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেখানে:

এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রয়েছে বেশ কিছু ঘটনা:

  • আমেরিকার আক্রমণ: ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম IRIB-এর দাবি, শনিবার রাতে ইরানের দক্ষিণের সিরিক শহরে প্রবল মিসাইল হামলা চালায় আমেরিকা। এতে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমসহ ইরানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।
  • সেন্টকমের অভিযোগ: আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর দাবি, শুক্রবার ও শনিবার ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে সিঙ্গাপুর ও পানামার পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালায়। এর জেরেই আমেরিকা পাল্টা প্রত্যাঘাত করে।

ইরানের হুঁশিয়ারি ও পাল্টা জবাব:

আমেরিকার হামলার পরই তেহরান কড়া বার্তা দেয়। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-ফিকার সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এবার দীর্ঘ ও অন্তহীন রাতের জন্য প্রস্তুত থাকুন।” এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কুয়েত ও বাহরিনে আমেরিকার ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

বর্তমান পরিস্থিতি:

  • বাহরিন: দেশটির বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ইরানের বেশ কয়েকটি ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি।
  • কুয়েত: কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম শত্রুপক্ষের মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
  • আমেরিকার প্রতিক্রিয়া: এই হামলার পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিকভাবে, আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই একে অপরের ঘাঁটিতে হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর সমস্ত কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *